বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও এই খাতে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ কমছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ২১১টি। এর বিপরীতে শিক্ষার্থী কমেছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৫৫ জন। এই পরিসংখ্যান কারিগরি শিক্ষার প্রসারে একটি বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে প্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিক্ষার্থী ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর তুলনামূলক চিত্র
ব্যানবেইসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৮৭২টি। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৬৬১টি। অর্থাৎ, এক বছরে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১ হাজার ২১১টি।
- ২০২৪ সালে মোট শিক্ষার্থী: ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৩ জন
- ২০২৩ সালে মোট শিক্ষার্থী: ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৩৮ জন
- শিক্ষার্থী কমেছে: ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৫৫ জন
এই তথ্য স্পষ্ট করে যে, কারিগরি শিক্ষার অবকাঠামো সম্প্রসারিত হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর প্রতি আগ্রহ কমছে, যা দেশের কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

উচ্চশিক্ষায় কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব
বর্তমান বিশ্বে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য কারিগরি শিক্ষা অপরিহার্য। সরকার কারিগরি শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া এই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই প্রবণতার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ভবিষ্যৎ করণীয়
কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে, যেমন – শিক্ষার মান, কর্মসংস্থানের সুযোগ, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, বা প্রচারণার অভাব। এই বিষয়গুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। কারিগরি শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও যুগোপযোগী করে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।


