পটভূমি ও উদ্যোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে ছয় থেকে আট মাসের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি সমন্বিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসন করা।
উপাচার্যের বক্তব্য ও সভার সারসংক্ষেপ
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের সভাপতিদের সঙ্গে সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ নিজস্ব অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে, যা সমন্বয়হীনতার কারণ। এই সভা আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল অনুষদভিত্তিক অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা এবং সে অনুযায়ী একটি সমন্বিত ক্যালেন্ডার তৈরি করা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি, শিক্ষার্থীদের যেন পরীক্ষার ফলের জন্য ছয় থেকে আট মাস অপেক্ষা করতে না হয়। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করে ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং সেশনজট নিরসনে আমরা সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই।”

পরবর্তী পদক্ষেপ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
সভায় উপস্থিত বিভাগের সভাপতিরা সেশনজট নিরসনে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নকে অপরিহার্য বলে একমত পোষণ করেন। এ লক্ষ্যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি বিভাগকে তাদের প্রস্তাবিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার সংশ্লিষ্ট ডিনদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। ডিনরা এই প্রস্তাবনাগুলো একত্রিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করবেন। এরপর উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ডিন এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করবেন। প্রতিটি অনুষদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সময় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সমন্বিত ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হবে।
নতুন ও পুরোনো ব্যাচের জন্য পরিকল্পনা
উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ৫৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ক্যালেন্ডারে ভর্তি কার্যক্রম, ক্লাস শুরুর সময়, পরীক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের সময়সূচি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই তাঁদের শিক্ষাজীবনের সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাবেন। প্রশাসন ৫৬তম ব্যাচ এবং পরবর্তী ব্যাচগুলোর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অভিন্নতা নিশ্চিত করতে চায়।
একই সাথে, ৫৬তম ব্যাচের আগের শিক্ষার্থীদের জন্যও সমন্বিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুরোনো ব্যাচগুলোর মধ্যে কিছু বর্ষভিত্তিক এবং কিছু সেমিস্টারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ায়, এই ভিন্নতাগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি অনুষদের অ্যাকাডেমিক কাঠামো অনুযায়ী পৃথকভাবে সমন্বিত ক্যালেন্ডার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রত্যাশিত ফলাফল
উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সেশনজট কমে আসবে এবং শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে তাঁদের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য সহায়ক হবে।


