সাক্ষরতার অগ্রগতি: প্রত্যাশার চেয়ে পিছিয়ে
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশে সাক্ষরতার অগ্রগতি এখনো আশানুরূপ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সাক্ষরতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপদেষ্টার বক্তব্য
গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত সাক্ষরতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে সাক্ষরতার কোনো বিকল্প নেই, কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, "সাক্ষরতা দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি। আমরা সাক্ষরতার হার বাড়াতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি, তবে এর অগ্রগতি এখনো আমাদের প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। এই ক্ষেত্রে আরও গতিশীলতা আনা প্রয়োজন।"

সাক্ষরতা বৃদ্ধিতে করণীয়
উপদেষ্টা তার বক্তব্যে সাক্ষরতার হার বাড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, উপানুষ্ঠানিক এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার প্রসারেও জোর দিতে হবে। বিশেষ করে, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং বয়স্কদের জন্য সাক্ষরতা কর্মসূচিগুলোকে আরও কার্যকর করা জরুরি।
- উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসার: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পৌঁছানো কঠিন, সেখানে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
- প্রযুক্তি ব্যবহার: সাক্ষরতা কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা, যেমন মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
- শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ: সাক্ষরতা কর্মসূচির সাথে জড়িত শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানান, সরকার সাক্ষরতার হার শতভাগে উন্নীত করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে নতুন নতুন কৌশল ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।


