শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

কারিগরি শিক্ষায় নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এখনো ৩০ শতাংশের নিচে

ডেস্ক রিপোর্ট
৪ ঘণ্টা আগে
কারিগরি শিক্ষায় নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এখনো ৩০ শতাংশের নিচে
কারিগরি শিক্ষায় নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এখনো ৩০ শতাংশের নিচে
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জিত হয়নি। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষকতা—উভয় ক্ষেত্রেই নারীদের উপস্থিতি এখনো ৩০ শতাংশের নিচে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের পরিসংখ্যান

ব্যানবেইসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯৪ জন। এর মধ্যে ছাত্রী সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৫৮ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ২৯.৭১ শতাংশ। অন্যদিকে, ছাত্রের সংখ্যা ৯ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩৬ জন।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় নারী শিক্ষকের সংখ্যাও আশানুরূপ নয়। ২০২৫ সালে এই খাতে মোট শিক্ষক ছিলেন ৫০ হাজার ৫৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ শিক্ষক ছিলেন ৩৭ হাজার ৩৪৭ জন, আর নারী শিক্ষকের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ হাজার ২৪২ জন, যা মোট শিক্ষকের ২৬.১৮ শতাংশ।

News details square ads

সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণের হার

সরকারি ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে নারীদের অংশগ্রহণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

  • বেসরকারি প্রতিষ্ঠান: মোট শিক্ষার্থীর ৩২.৬৭ শতাংশ বা ৩ লাখ ১৩ হাজার ১৬৬ জন ছাত্রী।
  • সরকারি প্রতিষ্ঠান: মাত্র ৯০ হাজার ২৯২ জন ছাত্রী, যা মোট শিক্ষার্থীর ২২.৬১ শতাংশ। অর্থাৎ, সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২৩ জন ছাত্রী থাকলেও বেসরকারিতে এই সংখ্যা ৩৩ জন।

শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়:

  • বেসরকারি প্রতিষ্ঠান: মোট ৩৯ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষকের মধ্যে নারী শিক্ষক ১০ হাজার ৮৯০ জন, যা ২৭.৬৭ শতাংশ।
  • সরকারি প্রতিষ্ঠান: ১১ হাজার ২৩৫ জন শিক্ষকের মধ্যে নারী শিক্ষক মাত্র ২ হাজার ৩৫২ জন, যা ২০.৯৩ শতাংশ।

যেসব খাতে নারীদের উপস্থিতি সবচেয়ে কম

কারিগরি শিক্ষায় প্রতিষ্ঠানভেদে নারী শিক্ষক ও ছাত্রীদের উপস্থিতি কম রয়েছে। বিশেষ করে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে কম।

টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

৪৫২টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ২৫.৬০ শতাংশ (৪৩ হাজার ৩৮০ জন)। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবস্থা আরও নাজুক:

  • সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে নারী শিক্ষকের উপস্থিতি মাত্র ১৪.১৬ শতাংশ (৩ হাজার ৫১১ জনের মধ্যে ৪৯৭ জন)।
  • ছাত্রীর হার ২২.২১ শতাংশ (২১ হাজার ৭৯৬ জন)।

মাধ্যমিক স্তরের কারিগরি শিক্ষা (এসএসসি ভোকেশনাল ও টেক্সটাইল)

৩ হাজার ১১৯টি মাধ্যমিক স্তরের (এসএসসি ভোকেশনাল ও টেক্সটাইল) প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ৩২.৯৮ শতাংশ হলেও সরকারি খাতে তা ১৯.৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

  • সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের ২২১ জন শিক্ষকের মধ্যে নারী শিক্ষক মাত্র ৪৯ জন, যা ২২.১৭ শতাংশ।
  • মোট ৬ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী মাত্র ১ হাজার ৬৪২ জন, যা ২৫.৫১ শতাংশ।

টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)

৩ হাজার ৯২৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) ৩ লাখ ৮১ হাজার ৮৩৪ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার ১১৭ জন ছাত্রী, যা ৩২.২৪ শতাংশ। এই খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ৩৩.২২ শতাংশ হলেও সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তা ২৮.৯৯ শতাংশ।

সামগ্রিক চিত্র

দেশের মোট ১০ হাজার ৫২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি মাত্র ৭৬৬টি। সব মিলিয়ে, সরকারি বা বেসরকারি কোনো খাতেই নারী শিক্ষকের উপস্থিতি মোট শিক্ষকের এক-তৃতীয়াংশ ছুঁতে পারেনি। একই অবস্থা নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা কারিগরি শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা অর্জনে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]