শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

শিক্ষক-শিক্ষার্থীবিহীন সরকারি বিদ্যালয়: চাবি প্রতিবেশীর কাছে, ইউএনও'র হতাশা

ডেস্ক রিপোর্ট
৪ ঘণ্টা আগে
শিক্ষক-শিক্ষার্থীবিহীন সরকারি বিদ্যালয়: চাবি প্রতিবেশীর কাছে, ইউএনও'র হতাশা
শিক্ষক-শিক্ষার্থীবিহীন সরকারি বিদ্যালয়: চাবি প্রতিবেশীর কাছে, ইউএনও'র হতাশা
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

শিক্ষক-শিক্ষার্থীবিহীন বিদ্যালয়: ইউএনও'র আকস্মিক পরিদর্শন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর ইউনিয়নের ১৮২ নম্বর সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক অস্বাভাবিক চিত্র দেখা গেছে। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান, বিদ্যালয় খোলা থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী উপস্থিত নেই। এমনকি বিদ্যালয়ের চাবি রাখা ছিল পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির কাছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। এই কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসায় ভর্তি করেছেন। ইউএনও রুমানা আফরোজ এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং সরকারি বিদ্যালয়ে এমন পাঠদান কার্যক্রম চলতে পারে না বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অভিযোগ

একই ইউনিয়নের চরলিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকসহ আরও দুজন শিক্ষক প্রায়শই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

News details square ads

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত তলব

সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) জারি করা এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইউএনও বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিত দেখতে পান।

চিঠিতে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) চাকরি বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধান উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

প্রশ্ন উঠেছে তদারকি নিয়ে

সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি এবং বিদ্যালয়ের চাবি অন্যের কাছে রেখে দেওয়ার ঘটনা বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম ও সামগ্রিক তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ইউএনও রুমানা আফরোজ এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]