শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে প্রবেশ করেছে, উপকূলে ব্যাপক তাণ্ডবের শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট
৩ ঘণ্টা আগে
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে প্রবেশ করেছে, উপকূলে ব্যাপক তাণ্ডবের শঙ্কা
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে প্রবেশ করেছে, উপকূলে ব্যাপক তাণ্ডবের শঙ্কা
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে প্রবেশ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর পূর্বেই জানিয়েছিল, দ্রুতগতিতে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় বুধবার ভোররাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে ঝড়টি স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির বাইরের মেঘমালা ইতোমধ্যে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে, যার প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান ও গতিপথ

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র অন্ধ্রপ্রদেশের নারসাপুর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকালেই বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল, ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে এটি স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে।

বাতাসের গতি ও বৃষ্টির পূর্বাভাস

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। একই সাথে সমুদ্রও অত্যন্ত উত্তাল থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

News details square ads

জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা

আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতায় বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের কারণে পানি ঢুকে পড়তে পারে। বিশেষ করে, কাকিনাড়া ও ইয়ানামের আশপাশে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার ওপর ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। গোদাবরী নদীর মোহনায় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ২ থেকে ৩.৫ মিটার হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও আশ্রয়কেন্দ্র

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকা থেকে অন্তত ৮৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০টি জেলায় ২ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া, মাছ ধরার ৩০ হাজারের বেশি নৌযান নিরাপদে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ১০০ চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ চলাকালে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেশী রাজ্যে প্রভাব

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে প্রতিবেশী ওডিশার উপকূলীয় এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে, যা ঘূর্ণিঝড়টির পুরো স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দেবে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]