শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

২৮ অক্টোবর: লগি-বৈঠা তাণ্ডবের দুই দশক ও বিচার দাবিতে সোচ্চার শহীদ পরিবার

ডেস্ক রিপোর্ট
২ ঘণ্টা আগে
২৮ অক্টোবর: লগি-বৈঠা তাণ্ডবের দুই দশক ও বিচার দাবিতে সোচ্চার শহীদ পরিবার
২৮ অক্টোবর: লগি-বৈঠা তাণ্ডবের দুই দশক ও বিচার দাবিতে সোচ্চার শহীদ পরিবার
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

পটভূমি: পল্টনের লগি-বৈঠা তাণ্ডব

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় দিন। তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল লগি-বৈঠা আন্দোলনের ডাক দেয়। এই দিন রাজধানীর পল্টনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর লগি-বৈঠা ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ছয়জন নিহত হন এবং সহস্রাধিক আহত হন।

শহীদ পরিবার ও জামায়াতের অভিযোগ, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। হামলার পর নিহতদের লাশের ওপর নৃত্য-উল্লাসের মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটে, যা দেশ-বিদেশে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিচার প্রক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পরদিন ২৯ অক্টোবর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের ৪০ জন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হুকুমের আসামি করে মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দেওয়া হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও, পরে অদৃশ্য কারণে তা মুলতবি করা হয় এবং অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

News details square ads

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক আখ্যা দিয়ে প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া থমকে যায়।

শহীদ পরিবার ও জামায়াতের নতুন প্রত্যাশা

দুই দশক পেরিয়ে গেলেও লগি-বৈঠা হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলো আজও বিচার পায়নি। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শিপন এবং জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন ও হাবিবুর রহমান সহ নিহতদের স্বজনরা আজও শোক ও হতাশা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামসুন্নাহার রুবি এবং শহীদ হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপনের পিতা তাজুল ইসলাম উভয়েই এই হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করে তার ফাঁসি দাবি করেছেন।

শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামসুন্নাহার রুবি আমার দেশকে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার মামলা বন্ধ করে দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত আর চালু হয়নি। অনেক দুঃখ-কষ্ট নিয়ে আমাদের দিন কাটছে। মাসুমের বাবা কষ্ট নিয়েই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে। আমি নিজেও স্কুলে চাকরি করতে পারিনি। আমার বাবাকেও তারা অত্যাচার করেছে। আমাদের জীবনে প্রতিদিনই ২৮ অক্টোবর আসে। আমরা এই ঘটনায় হাসিনার ফাঁসি চাই।”

সম্প্রতি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নিহতদের পরিবার ও জামায়াতে ইসলামী পুনরায় মামলাগুলো সচল করা এবং প্রয়োজনে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে খুনিদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ জানিয়েছেন, নতুন করে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বিরোধীদলীয় নেতার বিবৃতি ও অন্যান্য দাবি

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান গত সোমবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অবিলম্বে খুনিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পুনরায় সচল করে তাদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়াও, নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য বিচারের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]