শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা: নেতানিয়াহুর বিদায় কি আসন্ন?

ডেস্ক রিপোর্ট
৩ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা: নেতানিয়াহুর বিদায় কি আসন্ন?
ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা: নেতানিয়াহুর বিদায় কি আসন্ন?
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

প্রাথমিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হার

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। এর ফলে দেশটিতে পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট নেসেটে (পার্লামেন্ট) ৫৩টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৮। সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসন অপরিহার্য।

আরব দলগুলোর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব

এই নির্বাচনে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা তাদের সরকার গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় পাঁচ মিলিয়নের বেশি ভোট গণনা করা হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার ভোরে ৯০.২ শতাংশ আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা সম্পন্ন হয়। তবে 'ডাবল এনভেলপ' ব্যালট, যার মধ্যে সেনাসদস্য, হাসপাতালে থাকা রোগী, কারাবন্দী এবং নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী কর্মকর্তা ও কর্মীর ভোট রয়েছে, সেগুলো তখনও গণনা করা বাকি ছিল। এসব ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে।

News details square ads

দলীয় আসন বিন্যাস

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৬টি আসন পেয়ে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে। তার জোটের অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, শাস এবং ওতজমা ইয়েহুদিত সাতটি করে আসন পেতে পারে। এছাড়া, রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি ছয়টি আসন লাভ করতে পারে।

অন্যদিকে, বিরোধী জোটের গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২১টি, নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াখাদ ১২টি, ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস আটটি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু সাতটি আসন পেতে পারে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের জনমত জরিপে বিরোধী জোট এগিয়ে ছিল এবং আইজেনকোটের দলকে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হওয়ার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছিল।

আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিতর্ক

নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড অংশগ্রহণের পর বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, আরব দলগুলোকে হিসাবে ধরলে বিরোধী পক্ষের আসন সংখ্যা ৬৫-তে পৌঁছায়, যা নেতানিয়াহুর পক্ষের ৫৫ আসনের চেয়ে বেশি। গোলান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন,

"নেতানিয়াহু হেরেছেন। আমি ১২০ পর্যন্ত গুনতে জানি। ৬৫, ৫৫-এর চেয়ে বেশি। ইসরায়েলি গণতন্ত্র এভাবেই কাজ করে।"

তবে, বিরোধী জোটের অন্য নেতারা সরকারে আরব দলগুলোর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন, বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর। লিবারম্যান নির্বাচনের আগেও আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন। ফলে গোলানের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা বিরোধী জোটের জন্য সহজ হবে না।

প্রেসিডেন্টের আহ্বান ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক নেতাদের খোলা মন নিয়ে জোট গঠনের আলোচনা করার এবং নতুন নির্বাচন এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন,

"একটি বিষয় বুঝতে হবে—নির্বাচনের আগেও আমি এ কথা বলেছিলাম। গতকালের নির্বাচনের পর তো অবশ্যই, নতুন করে আরেকটি নির্বাচন এড়াতে আমাদের সবকিছু করতে হবে।"

আইন অনুযায়ী, সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রেসিডেন্টকে নেসেটের বিভিন্ন দলের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন এবং সংসদীয় দলের চেয়ারম্যান আহমাদ তিবি নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য বিরোধী জোটের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে, বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং আরব দলগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ভিন্নমত একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]