শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট
২ ঘণ্টা আগে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ চলে। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। এছাড়াও, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য।

“সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

News details square ads
— মো. কামরুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা, ঠাকুরগাঁও

কেন্দ্র ও ভোটার সংখ্যা

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিনটি উপজেলায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন। উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ২৮৭ জন নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে ২৪৯ জন পুরুষ এবং ৩৮ জন নারী।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণ

এই উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন:

  • বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন (রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই)
  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন
  • হাফেজ ডা. খাদেমুল ইসলাম
  • আবদুল আলীম নিজামী
  • হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক

প্রাথমিকভাবে ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও, পরবর্তীতে বিএনপির জেলা সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যবেক্ষণ

ভোটের নিরাপত্তায় পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন। ভোটকেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে একটি মনিটরিং সেল গঠন করে, যা থেকে ভোটকেন্দ্রের অবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটগ্রহণের ব্যবস্থাপনা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।

আসন শূন্য হওয়ার প্রেক্ষাপট

গত ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়। তিনি ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদকে ২৫৫ ভোটে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই শূন্য আসনেই এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]