মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত অভিযান ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তারের পদ্ধতি যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান। তিনি জোর দিয়েছেন যে, মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নীতি সংলাপে মূল বার্তা
সম্প্রতি 'পলিসি ডায়ালগ অন এ ড্রাগ ফ্রি বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাকশন' শীর্ষক এক নীতি সংলাপে ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ের জন্য একটি সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক কৌশল অপরিহার্য। শুধু ছোটখাটো অপরাধীদের ধরে বড় সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়, বরং মাদকের উৎস এবং এর পেছনে থাকা শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে ভেঙে দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের প্রয়োজনীয়তা
ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান ব্যাখ্যা করেন যে, একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি হলে মাদক কারবারিদের তথ্য, তাদের নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আরও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে। তিনি বলেন:

"মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান পরিচালনা কিংবা বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা ও নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করা আবশ্যক।"
ভবিষ্যৎ করণীয়
এই নীতি সংলাপে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- মাদকবিরোধী আইন প্রয়োগে কঠোরতা আনা।
- মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।
- আন্তঃসংস্থা সমন্বয় জোরদার করা।
- সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো।
ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানের এই প্রস্তাবনা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একটি নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


