শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬: ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ে ফেভারিট বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
৩ ঘণ্টা আগে
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬: ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ে ফেভারিট বাংলাদেশ
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬: ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ে ফেভারিট বাংলাদেশ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

প্রায় ১৪ বছর পর ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে একবারই এই শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর নয়টি আসরে অংশ নিলেও আর সাফের ট্রফি জেতা হয়নি তাদের। তবে এবার শিরোপা পুনরুদ্ধারের দারুণ সম্ভাবনা দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ, সুকি, ইতোফুসা, ফাহামিদুল ইসলামদের মতো অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান প্রবাসী খেলোয়াড়দের আগমনে বাংলাদেশের ফুটবল দল নতুন করে জাগরণ পেয়েছে। আগামী ৫-১৭ নভেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া সাফের ১৫তম আসরে বাংলাদেশকেই সবার চেয়ে এগিয়ে রাখছেন তারা।

টুর্নামেন্টের দল এবং প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ

এবারের টুর্নামেন্টে মোট ছয়টি দল অংশ নেবে। এর আগে ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া আসরে আটটি দল খেলেছিল, যেখানে কুয়েত ও লেবানন ছিল আমন্ত্রিত দল। সেবার ভারত চ্যাম্পিয়ন এবং কুয়েত রানার্সআপ হয়েছিল। এবার দলের সংখ্যা কমেছে এবং শক্তিশালী নেপাল ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারছে না। অন্যদিকে, ভারত তাদের সিনিয়র জাতীয় দলের পরিবর্তে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠাচ্ছে। আসন্ন সাফে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে লড়বে শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। অভিজ্ঞতা, শক্তি ও সামর্থ্যের বিচারে এই ছয়টি দলের মধ্যে বাংলাদেশই সবচেয়ে ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রবাসী খেলোয়াড়দের প্রভাব

হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ, সুকি, ইতোফুসা, ফাহামিদুল ইসলামদের মতো অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান প্রবাসী খেলোয়াড়রা দলে যোগ দেওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশ একটি প্রবল শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যদিও শ্রীলঙ্কা দলেও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের আধিক্য রয়েছে; তাদের একাদশে প্রায় নয়জন প্রবাসী খেলোয়াড় থাকেন, যারা অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন ও ইংল্যান্ডের ক্লাবে খেলেন। বর্তমান পাকিস্তান দলটিও বেশ প্রতিশ্রুতিশীল, তাদেরও কিছু খেলোয়াড় ইউরোপের লিগে নিয়মিত খেলেন। তবে মানসম্পন্ন প্রবাসী ফুটবলারের সংখ্যায় বাংলাদেশই সেরা।

News details square ads

বিশেষজ্ঞদের মতামত

একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে আটটি সাফে খেলা সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য আমার দেশকে বলেন, “অনেক কারণেই এবার আমরা সবার চেয়ে এগিয়ে। প্রথমত আমরা ঘরের মাঠে খেলব। তাছাড়া ভারতের জাতীয় দল আসছে না। তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেলবে। নেপাল খেলবে না। আমার মনে হয়, বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো দল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। যদিও অন্যদের খাটো করে দেখছি না। তবে পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ অনেকটাই চাপমুক্ত থাকবে। হামজাদের অন্তর্ভুক্তিতে আমাদের যে বর্তমান দল, আমরা ফাইনাল খেলা ডিজার্ভ করি।”

২০০৩ সালের সাফজয়ী স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদও মনে করেন, আসন্ন আসরে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবল দল বাংলাদেশ। তার মতে, দলে বিশ্বমানের ফুটবলাররা যোগ দেওয়ায় শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে অন্য দলগুলো পিছিয়ে আছে। আলফাজ আমার দেশকে বলেন, “অন্যদের চেয়ে আমরা অবশ্যই এগিয়ে আছি। এ দলটির সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতা উচিত। যদি শিরোপা জিততে না পারে দলটি, তাহলে সেটি হবে বড় ধরনের ব্যর্থতা।”

কোচের ভূমিকা ও আক্রমণভাগের চ্যালেঞ্জ

আলফাজ আহমেদের মতে, সাফের শিরোপা জয় নির্ভর করছে কোচ থমাস ডুলির নেওয়া পরিকল্পনা, কৌশল আর দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। একাদশ সাজানো থেকে শুরু করে সব দিক থেকেই কোচের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। তিনি বলেন, “কীভাবে খেললে শিরোপা জেতা যাবে, সেই টার্গেট করতে হবে কোচকেই। খেলোয়াড়রা তো তাদের সেরা পারফরম্যান্সটাই দেবে। প্রত্যাশা করি, দলটি সাফের শিরোপা জিতুক।”

সব দলের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও আলফাজ আহমেদ মনে করেন, সাফে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করা। দুর্বল আক্রমণভাগ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে বাংলাদেশ, বিশেষ করে 'নাম্বার নাইন' পজিশন নিয়ে কোচ চিন্তিত। আলফাজ আহমেদের মতে, আক্রমণভাগে বাংলাদেশের দুর্বলতার খবর পুরোনো হলেও, যারা খেলছেন তারা বেশ প্রতিশ্রুতিশীল। সুকি, ফারহানদের মতো খেলোয়াড়রা উইং থেকে ভালো মানের বল পেলে গোল করার সামর্থ্য রাখেন।

আসিয়ান কাপের অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি বাংলাদেশ ফিফা আয়োজিত আসিয়ান কাপে খেলেছে, যেখানে তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম করে কোচ থমাস ডুলির দল। এই ভরাডুবির পরপরই বাংলাদেশ সাফ চ্যালেঞ্জে নামছে। সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব মনে করেন, আসিয়ান কাপে শুধু গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল না, বরং পুরো দলই ভয়ানক বাজে খেলেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সাফে খেলোয়াড়দের মানসিক সমর্থন ও উৎসাহ দেওয়া গেলে গোলরক্ষকরা তাদের আস্থা ফিরে পাবেন।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]