ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে অকৃতকার্যতার দাবি
নওগাঁ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু সম্প্রতি একটি সেমিনারে মন্তব্য করেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পরপর কয়েকবার ইংরেজিতে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব শিক্ষার্থী জিপিএ-৫, ডাবল জিপিএ-৫ এবং গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে অকৃতকার্য হচ্ছে, তা জাতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এই পরিস্থিতিতে তিনি শিক্ষার্থীদের মৌলিক বিষয়গুলোতে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
তবে, এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট তথ্য ঘেঁটে এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সেমিনার ও সংসদ সদস্যের বক্তব্য
গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষ ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত ‘ইসলাম শিক্ষা বিস্তারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাবনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং নৈতিক শিক্ষায় ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে ইকরামুল বারী টিপু এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, “শুধু মাদ্রাসা নয়, সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই আমাদের শিক্ষার্থীদের মৌলিক বিষয়গুলোতে (বেসিক জায়গায়) অনেক দুর্বলতা রয়েছে। ইংরেজির অবস্থা নিয়ে আপনাদের কথা বলা হলো, কিন্তু আমরা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলের দিকে তাকাই, তাহলে বিগত কিছুদিনে এমন ঘটনাও দেখেছি যে, পরপর কয়েকবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজিতে একজনও পাস করেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় যারা ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসে, তারা তো জিপিএ-৫, ডাবল-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে আসে। তারপরও তারা ইংরেজি বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে পারে না। এটি আমাদের জাতির জন্য দুঃখজনক। সে কারণেই এসব বিষয়ের প্রতি আমাদের একটু বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”
শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা ও নৈতিক শিক্ষা
ইকরামুল বারী টিপু তাঁর বক্তব্যে শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক দুর্বলতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ মৌলিক বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়, যা শুধু মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান যে, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শৈশবে নৈতিক শিক্ষা প্রদানের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি চারাগাছকে যেমন ইচ্ছেমতো রূপ দেওয়া যায়, তেমনি শৈশবে শিশুদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলে তাদের কাঙ্ক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ইবতেদায়ী ও ফুরকানিয়া মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের মধ্যে আল্লাহ ও রাসুলের বাণী, সততা, সত্যবাদিতা, অন্যায় পরিহার, বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করার মতো গুণাবলি বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরে সংসদ সদস্য টিপু বলেন, শুধু ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে শিশুদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুললে হবে না, তাদের আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানেও উন্নত করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে নিজেদের জীবন গড়ার জন্য এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর মতো বিষয়গুলোও শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো উচিত। তিনি মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠ্যক্রমে এসব আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।


