শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ: জাতিসংঘের অনুমোদন

ডেস্ক রিপোর্ট
১ ঘণ্টা আগে
এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ: জাতিসংঘের অনুমোদন
এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ: জাতিসংঘের অনুমোদন
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

পটভূমি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে অতিরিক্ত তিন বছর সময় মঞ্জুর করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে, বাংলাদেশের এলডিসি থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের নতুন সময়সীমা ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। এই বর্ধিত সময় বাংলাদেশকে কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া

গত বৃহস্পতিবার উরুগুয়ের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর আগে, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএন-সিডিপি) কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন জানায়। ইউএন-সিডিপি এই আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে, যা গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠায়।

উত্তরণের মানদণ্ড ও পূর্ববর্তী সময়সীমা

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে এলডিসি তালিকাভুক্ত হয়। ২০১৮ এবং ২০২১ সালের পরপর দুটি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ তিনটি প্রধান মানদণ্ড সফলভাবে পূরণ করে: মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা। ২০২১ সালে উত্তরণের সুপারিশ অনুমোদনের পর কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশকে পাঁচ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় দেওয়া হয়েছিল, যা ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।

News details square ads

প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জসমূহ

জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এই অতিরিক্ত সময়ে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এবং প্রতি বছর অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ বিভিন্ন বাজারে প্রাপ্ত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনের (আঙ্কটাড) ২০২৫ সালের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাণিজ্য সুবিধা হারালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

এই বর্ধিত সময় বাংলাদেশকে পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]