শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
৮ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ
বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের (১ লাখ কোটি ইয়েন) বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে জাপান। জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান জাপান সফরে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছেছেন। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের এই সরকারি সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রসমূহ

নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়ে জাপান সম্মত হতে পারে। এই উদ্যোগের আওতায় মূলত গাড়ি ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্প এবং জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানের সংশ্লিষ্টতায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

News details square ads
  • গাড়ি উৎপাদন: বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন শিল্পে জাপানি বিনিয়োগ নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
  • অন্যান্য উৎপাদনশিল্প: বিভিন্ন উৎপাদন খাতে জাপানি প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।
  • জ্বালানি অবকাঠামো: দেশের জ্বালানি খাতে অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
  • বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল: সুমিতোমো করপোরেশনসহ কয়েকটি জাপানি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে যুক্ত রয়েছে, যা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সফরের মূল আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে বিনিয়োগ উদ্যোগটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আজ ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তার শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে তিনি অংশ নেবেন।

দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে। এছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও পরিদর্শন

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরা-সহ জাপানের বড় কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন, যেখানে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন। বুধবার তিনি ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করবেন এবং প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার নাগোয়া শহরে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তার।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার

বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। চুক্তিটির কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি ও জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]