শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, দেশের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোকে অচিরেই সুনির্দিষ্ট সরকারি নিয়ম-নীতির আওতায় আনা হবে। বর্তমানে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কোনো কার্যকর নীতিমালা বা আইন না থাকায় সরকার তাদের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারছে না।
পটভূমি
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর পরিচালনার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আইন বা নীতিমালা নেই। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের সময় একটি কমিটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনার জন্য আইন ও নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব করেছিল। তবে, সেই প্রস্তাবনা অনুযায়ী এখনো কোনো কার্যকর আইন বা বিধিমালা প্রণীত হয়নি। এই শূন্যতার কারণে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে সরকারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “বর্তমানে দেশের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা ও আইন নেই। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর কমিটি থেকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনা সংক্রান্ত একটি আইন ও নীতিমালার করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা হয়নি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই আইনগত শূন্যতা পূরণের জন্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, যাতে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি অভিন্ন কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হতে পারে এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যায়।
প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, শিক্ষকদের পেশাগত মান উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এছাড়াও, দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সাথে একটি সমন্বয় সাধন করাও এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য।
পরবর্তী পদক্ষেপ
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত খসড়া নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ, যেমন - স্কুল কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবেন। একটি সুষম ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।


