প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা ও প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিয়ে আইনি নোটিশ
প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করা, প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধকরণ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক নির্ধারিত বইয়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া বন্ধের দাবিতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এই নোটিশটি প্রেরণ করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশের মূল দাবি
আইনি নোটিশে মূলত তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং শিশুদের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্য রাখে। দাবিগুলো হলো:

- প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ: শিশুদের ওপর থেকে অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ কমাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করা।
- অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধকরণ: প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো অননুমোদিত এবং অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টিকারী প্রাক-প্রাথমিক কোর্সগুলো সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা।
- অতিরিক্ত বই চাপানো বন্ধ: এনসিটিবি কর্তৃক অনুমোদিত পাঠ্যক্রমের বাইরে শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করা।
সরকারের প্রতি আহ্বান
নোটিশে উল্লিখিত দাবিগুলোর বিষয়ে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে, জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো শিশুদের শৈশবকে চাপমুক্ত রাখা এবং একটি সুষম ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।


