রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কয়েকটি প্রত্যন্ত গ্রামে প্রায় অর্ধশতক পর শিক্ষার আলো পৌঁছেছে। স্থানীয়দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হযরত আনাস (রাঃ) নূরানী অ্যান্ড কিন্ডারগার্টেন নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার শিশুরা এখন প্রাথমিক শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে।
শিক্ষাবঞ্চিত এলাকার চিত্র
জানা যায়, পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের টেংরামারী, তেলিপাড়া, ভড়ুয়াপাড়া, কাজিপাড়া, পশ্চিমভাগ, সরিষাবাড়ী, ধোপাপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া এবং ঝলমলিয়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষই ছিলেন শিক্ষাবঞ্চিত। স্বাধীনতার পর থেকে এই গ্রামগুলোতে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না। ফলে ৫০ বছর ধরে এই অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল।
স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগ
শিক্ষার এই অভাব পূরণে এগিয়ে আসেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবীরা। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং আর্থিক সহযোগিতায় বেলপুকুর ইউনিয়নের টেংরামারী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় হযরত আনাস (রাঃ) নূরানী অ্যান্ড কিন্ডারগার্টেন। এটি এই অঞ্চলের প্রথম ও একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা গ্রামের শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে এই কিন্ডারগার্টেনে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন, যারা শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, যা এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা
স্থানীয়রা আশা করছেন, এই কিন্ডারগার্টেনটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারিত হবে এবং আরও বেশি শিশুকে শিক্ষার সুযোগ করে দেবে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি এই ধরনের উদ্যোগকে সহযোগিতা করা হয়, তবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে।


