শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

শ্যালকের স্ত্রীকে নিয়ে দপ্তরির পলায়ন: অপমানে ছাত্রীর আত্মহনন, ময়মনসিংহ উত্তাল

ডেস্ক রিপোর্ট
৪ ঘণ্টা আগে
শ্যালকের স্ত্রীকে নিয়ে দপ্তরির পলায়ন: অপমানে ছাত্রীর আত্মহনন, ময়মনসিংহ উত্তাল
শ্যালকের স্ত্রীকে নিয়ে দপ্তরির পলায়ন: অপমানে ছাত্রীর আত্মহনন, ময়মনসিংহ উত্তাল
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

ঘটনার সূত্রপাত ও আত্মহনন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক স্কুল দপ্তরি তার শ্যালকের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তার সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে লোকলজ্জা ও অপমানে আত্মহত্যা করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, ধলিয়া আজিমুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি আশরাফুল ইসলাম তার শ্যালকের স্ত্রী, যিনি সম্পর্কে তার চাচাতো শ্যালিকাও হন, তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। এই অনৈতিক সম্পর্কের খবর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দপ্তরির পরিবার, বিশেষ করে তার মেয়ে, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য

আত্মহননকারী ছাত্রীর নাম আয়েশা আক্তার (১৩)। সে ধলিয়া আজিমুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ০১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে এই ঘটনা ঘটে। আয়েশার বাবা আশরাফুল ইসলাম একই বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

News details square ads

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুল ইসলাম তার শ্যালকের স্ত্রী, যার সঙ্গে তার চাচাতো শ্যালিকার সম্পর্কও ছিল, তাকে নিয়ে গত ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পালিয়ে যান। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই আয়েশা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। লোকলজ্জা ও সামাজিক অপমানের ভার সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

জনগণের প্রতিক্রিয়া ও মানববন্ধন

এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দপ্তরি আশরাফুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা ধলিয়া আজিমুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা অবিলম্বে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হয়ে এমন জঘন্য কাজ কীভাবে করতে পারেন? তার এই অপকর্মের জন্য একটি নিষ্পাপ মেয়ের জীবন চলে গেল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। একই সাথে, এই ঘটনার পেছনে আর কোনো কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

ধলিয়া আজিমুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছে। তারা জানিয়েছে, আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করার কথাও ভাবা হচ্ছে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]