পিএসসিতে সংস্কারের দাবিতে ছাত্রশিবিরের ১২ দফা
সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-তে দলীয়করণের অভিযোগ এনে এর কাঠামোগত সংস্কার, সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিতকরণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনের দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ১২ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে। সংগঠনটি একই সাথে সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ এবং পিএসসির স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
মূল অভিযোগ ও প্রস্তাবনা
ছাত্রশিবির তাদের প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে যে, পিএসসিতে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে, যা সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে পিএসসির সংস্কার করা উচিত, যাতে এটি একটি স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
ছাত্রশিবিরের ১২ দফা দাবিসমূহ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পিএসসির সংস্কার এবং সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত ১২ দফা দাবি পেশ করেছে:

- জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা।
- সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাব ও দলীয়করণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা।
- মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
- পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ করা।
- নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিরসন করে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা।
- পিএসসির স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
- সকল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শূন্যপদের সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা।
- লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বণ্টনে স্বচ্ছতা আনা।
- পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- চাকরিপ্রার্থীদের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ বছরে উন্নীত করা।
- প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে বিসিএসসহ অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা।
- পিএসসির সকল কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে ছাত্রশিবির লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে। তাদের লক্ষ্য, পিএসসিকে একটি নিরপেক্ষ ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা, যা দেশের মেধাবী তরুণদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।


