শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

মেট্রোরেল প্রকল্পে ভারতীয় কোম্পানির ১৭ হাজার কোটি টাকার কাজ: প্রশ্ন উঠছে সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট
৪ ঘণ্টা আগে
মেট্রোরেল প্রকল্পে ভারতীয় কোম্পানির ১৭ হাজার কোটি টাকার কাজ: প্রশ্ন উঠছে সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে
মেট্রোরেল প্রকল্পে ভারতীয় কোম্পানির ১৭ হাজার কোটি টাকার কাজ: প্রশ্ন উঠছে সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পে ভারতীয় কোম্পানির ১৭ হাজার কোটি টাকার কাজ: দেশীয় সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজ, সিপি-০৯ এবং সিপি-১০, ভারতীয় কোম্পানি L&T (লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো) এর হাতে যাওয়ায় দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই দুটি প্যাকেজের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১৭,৫১২ কোটি টাকা। সিপি-০৯ প্যাকেজটি জাপানের সুমিতোমোর সঙ্গে যৌথভাবে এবং সিপি-১০ প্যাকেজটি L&T এককভাবে পেয়েছে। এই বিশাল অংকের কাজ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ঝুলিতে যাওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, দরপত্রের স্বচ্ছতা এবং জাতীয় স্বার্থ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

বয়কট বনাম বাস্তবতার ফারাক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক চলছে, ঠিক তখনই দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভারতীয় কোম্পানির হাতে যাওয়ায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করছেন। সাধারণ মানুষের ১০ টাকার পণ্য বয়কট বা ভারত ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তের বিপরীতে ১৭ হাজার কোটি টাকার সিগন্যালিং, ট্র্যাক, পাওয়ার সিস্টেম এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোরের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কাজ বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে যাওয়াকে অনেকে বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন।

উত্থাপিত মূল প্রশ্নাবলী:

  • দেশীয় সক্ষমতা: যদি বলা হয় ‘যোগ্য দেশীয় কোম্পানি নেই’, তবে প্রশ্ন ওঠে গত ৫৫ বছরে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? সক্ষমতা কি আকাশ থেকে তৈরি হয়?
  • মূল্য ও স্বচ্ছতা: ‘ওরা সস্তা ও ভালো’ এমন যুক্তির বিপরীতে তুলনামূলক মূল্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ২০ বছরের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ জনগণের সামনে কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না? দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব কি বিলাসিতা?
  • বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা: ‘গ্লোবাল কম্পিটিশন’ এর কথা বলা হলেও, এই প্রতিযোগিতায় দেশের নিজস্ব প্রকৌশলী ও কোম্পানিগুলোকে নামানোর পরিকল্পনা কোথায়? শুধু রেফারি হয়ে বসে থাকা কি জাতীয় কৌশল?

সহযোগিতা বনাম নির্ভরতা

সাধারণ ভারতীয় জনগণের সঙ্গে কোনো বিরোধ না থাকলেও, বাণিজ্য ও সহযোগিতা এক জিনিস এবং নির্ভরতা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। বন্ধুত্ব আর ‘বড় ভাইয়ের ছায়ায় থাকা’ এক বিষয় নয়। যদি কোনো আঞ্চলিক পরাশক্তির ছায়া দেশের নীতির ওপর ক্রমশ দীর্ঘ হতে থাকে, তবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জাতীয় স্বার্থের অংশ।

News details square ads

“বাজারে পণ্য বয়কট করে ‘আত্মমর্যাদা’ দেখানো সবচেয়ে সস্তা দেশপ্রেম। আসল আত্মমর্যাদা টেন্ডার টেবিলে, ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবে আর পলিসি ড্রাফটে।”

সিদ্ধান্ত গ্রহণের সার্বভৌমত্ব

এই পরিস্থিতি কেবল স্লোগানের বিষয় নয়, বরং এটি দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। সরকার কি সক্ষম নয়, নাকি করতে চাইছে না? এই প্রশ্নের উত্তর কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে নয়, বরং দরপত্রের স্বচ্ছতায়, প্রযুক্তি হস্তান্তরে এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দিতে হবে। বাংলাদেশের স্বার্থই হোক বাংলাদেশের সকল সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]