জাতিসংঘের বিরুদ্ধে ইরানের গুরুতর অভিযোগ
ইরান সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, জাতিসংঘ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন, নৃশংসতা এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে। ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আলজাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বিশেষ প্রতিবেদকের ভূমিকা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইসমাইল বাঘাই জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক মাই সাতো-এর দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, যুক্তরাজ্য এই দায়িত্ব জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। বাঘাই আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অপরাধের জন্য তেহরানকে দায়ী করতে জাতিসংঘের এই বিশেষ প্রতিবেদকের ভূমিকা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপট
ইরানের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যগুলো করা হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মাই সাতো-এর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান ইরানিদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। তবে একই সঙ্গে, আঞ্চলিক সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে তেহরান সরকার ভিন্নমত দমনে অভিযান জোরদার করেছে।

অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত দমন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি
মাই সাতো-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই সময়ে ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপ ইরানের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ালেও, দেশটির কর্তৃপক্ষ সেই সংঘাতকে অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, "জাতিসংঘের মানবাধিকারব্যবস্থা আগ্রাসন, নৃশংসতা ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে।"


