তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এনসিপির অভিযোগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বসানোর জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করছে। তার মতে, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে তাদের প্রস্তাবিত 'র্যাঙ্ক চয়েস' পদ্ধতির ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ফর্মুলা বাস্তবায়ন করা জরুরি।
মুন্সীগঞ্জে ঢাকা উত্তর অঞ্চলের সাংগঠনিক সমন্বয় সভার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। এই সভাটি সারাদেশের সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির অতীত ও বর্তমান কৌশল
নাহিদ ইসলাম বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে নিজেদের লোক বসানোর চেষ্টা করে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, এবারও একই ধরনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এনসিপি আহ্বায়ক বিএনপিকে এ ধরনের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে র্যাঙ্ক চয়েস সিস্টেমের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দমন-পীড়ন
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সারা দেশে বিরোধী দল এবং সরকারের সমালোচনাকারী সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। তার দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশের কারণে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি ময়মনসিংহে এক নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপিকে ভোট দেওয়া নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার কারণে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তারা সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরেছেন।
স্বৈরাচারী প্রবণতা ও স্থানীয় নির্বাচন
এনসিপির এই নেতা বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, দেশে নতুন করে স্বৈরাচারী প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, শুরুতেই এটি প্রতিরোধ করা না গেলে জনগণকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগকে ২০০৮ সালের পরপরই প্রতিরোধ করা যায়নি বলেই দলটি ১৬ বছর ধরে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম রাখতে পেরেছিল। তার অভিযোগ, বিএনপিও একই ধরনের কৌশলে এগোচ্ছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি সংশয় প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এ নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি বা 'নির্বাচন প্রকৌশল' (ইঞ্জিনিয়ারিং) মেনে নেওয়া হবে না। এনসিপি আহ্বায়ক আরও মন্তব্য করেন যে, এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে বিএনপি পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না।


