শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

ইয়েমেনের হুথিরা যেভাবে সৌদি আরবের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে

ডেস্ক রিপোর্ট
৫৬ মিনিট আগে
ইয়েমেনের হুথিরা যেভাবে সৌদি আরবের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে
ইয়েমেনের হুথিরা যেভাবে সৌদি আরবের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধি করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এই সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা ও সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের ব্যাপক হামলার পর কয়েকটি শহরে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। খামিস মুশাইতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আবহা, তাইফ, নামাস ও জাজান শহরেও সতর্কতা জারি করা হয়। রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সীমিত পরিসরে চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই এই নতুন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে হুথিরা বিমানবন্দরটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

হুথিদের হামলা বৃদ্ধির কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের অভ্যন্তরে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া এবং সৌদি আরবের সামরিক তৎপরতা হুথিদের হামলা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ২০২২ সালে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং ইয়েমেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরিস্থিতি পুনরায় খারাপের দিকে যায়। হুথিরা সৌদি আরবের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চাইছে।

News details square ads

হুথিদের মূল লক্ষ্য

হুথিদের প্রধান লক্ষ্য হলো ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। একই সঙ্গে তারা দেশটির ভবিষ্যৎ সরকারে প্রভাব বিস্তার, নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং সৌদি আরবের কাছ থেকে রাজনৈতিক ছাড় আদায় করতে চায়। এছাড়া, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাবের কাছে নিজেদের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানোও তাদের পরিকল্পনার অংশ।

ইরান ও হুথিদের সম্পর্ক

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ইরান হুথিদের অস্ত্রপ্রযুক্তি, সামরিক দক্ষতা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করেছে, যা তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। তবে হুথিরা কেবল ইরানের নির্দেশে পরিচালিত কোনো গোষ্ঠী নয়। ১৯৯০-এর দশকে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে তাদের নিজস্ব আন্দোলনের সূচনা হয় এবং ২০১৪ সালে সানা দখলের পর তারা নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি গড়ে তোলে। ফলে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও ইয়েমেনে ক্ষমতা সংহত করার নিজস্ব লক্ষ্য তাদের রয়েছে।

বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার উদ্দেশ্য

সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার, পাইপলাইন এবং জ্বালানি রপ্তানি টার্মিনাল দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনায় হামলা চালিয়ে হুথিরা সৌদি আরবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করা, নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি করা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরির চেষ্টা করছে। সৌদি আরবের প্রচলিত সামরিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি পাল্লা দিতে না পারলেও, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে তারা দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম।

বাব আল-মান্দাবের কৌশলগত গুরুত্ব

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল বাব আল-মান্দেব ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সুয়েজ খালকেন্দ্রিক বাণিজ্যপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় টার্মিনাল থেকে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলের নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে লোহিত সাগরের গুরুত্ব আরও বাড়ে। এই দুটি নৌপথই ঝুঁকির মুখে পড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ, জাহাজভাড়া ও বিমা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চ্যালেঞ্জ

সৌদি আরবের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম। তবে বিশাল ভূখণ্ডজুড়ে বিমানবন্দর, শহর ও জ্বালানি স্থাপনা রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সব হামলা ঠেকানো সম্ভব না হওয়ায় প্রতিটি আক্রমণই বেসামরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

সংঘাত নিরসনের পথ

এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইয়েমেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ, বন্দর ও বিমানবন্দরের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে একটি সমঝোতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ জোরদার হতে পারে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ছড়িয়ে পড়লে অন্য দেশও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মূলত, সামরিক হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক ছাড় আদায় ও ইয়েমেনে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় হুথিরা। তবে এই কৌশল তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে—তা নির্ভর করছে আগামী দিনের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]