শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

রাজশাহীতে আমনের সোনালি শীষ: বাম্পার ফলনের হাতছানি, কৃষকদের মুখে হাসি

ডেস্ক রিপোর্ট
২ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীতে আমনের সোনালি শীষ: বাম্পার ফলনের হাতছানি, কৃষকদের মুখে হাসি
রাজশাহীতে আমনের সোনালি শীষ: বাম্পার ফলনের হাতছানি, কৃষকদের মুখে হাসি
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

রাজশাহীর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন পাকা আমন ধানের সোনালি শীষের মন মুগ্ধ করা দৃশ্য। কোথাও বাতাসে দুলছে পাকা ধান, আবার কোথাও আগাম জাতের ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। বিশেষ করে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষকদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

মাঠজুড়ে উৎসবের আমেজ

গত বুধবার তানোর, গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটতে মাঠে নেমেছেন। কেউ কাস্তে হাতে ধান কাটছেন, কেউ কাটা ধান আঁটি বেঁধে জমিতে স্তূপ করছেন। আবার কোথাও চলছে মাড়াইয়ের প্রস্তুতি। নিচু জমি ও আগাম রোপণ করা ধানক্ষেতে পাকা শীষের আধিক্য বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদে এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, কাঙ্ক্ষিত ফলনের পাশাপাশি এবার ধানের ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত হবে।

কৃষকদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ

তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ধান নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। তবে পরবর্তীতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের গাছ ও শীষ খুব ভালো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগাম রোপণ করা জমির ধান ইতোমধ্যে পাকতে শুরু করেছে এবং কিছু জমির ধান কাটা হয়েছে। এবার রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলক কম হওয়ায় ফলন ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

News details square ads
পবা উপজেলার কৃষক রজব আলী বলেন, “ধানের শীষ দেখে এবার ভালো ফলনের আশা করছি। ফলন ভালো হলে পরিবারের সারা বছরের খাদ্যের চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে এবং ধান বিক্রি করে কিছু অর্থও পাওয়া যাবে।” তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর নিয়ে তার কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।

গোদাগাড়ীর কৃষক মোসলেম উদ্দিনও জানান, আগাম জাতের ধান পাকায় তিনি কাটা শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত অনুকূল আবহাওয়ায় কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে বিঘাপ্রতি ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

বহুবিধ ফসল আবাদের সুযোগ

তানোর, মোহনপুর ও পবা উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু, সরিষা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন রবি শস্য আবাদ করবেন অনেকে। আগাম ধান কাটা শেষ হলে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে পরবর্তী ফসল চাষের সুযোগ মিলবে, যা কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। কৃষকদের মতে, একই জমিতে ধারাবাহিকভাবে একাধিক ফসল আবাদ করা গেলে উৎপাদন ও আয় দুটিই বাড়বে, পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ও সহায়তা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ এবং তিন লাখ ১৪ হাজার ৩৩৬ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ২৩ হাজার ৭৬২ হেক্টর এবং তানোর উপজেলায় ২১ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। জেলার এই দুই উপজেলাতেই আমন আবাদ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় উৎপাদনেও এগিয়ে থাকার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমন ধানের ফলন অনেকাংশে নির্ভর করে আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সময়ে রোপণ ও জমির পরিচর্যার ওপর। এবার অনুকূল আবহাওয়া এবং তুলনামূলক কম রোগবালাইয়ের কারণে অনেক এলাকায় ধানের গাছ ও শীষের গঠন ভালো হয়েছে।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, “চলতি মৌসুমে তানোরে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। মাঠের সার্বিক অবস্থা ভালো। আগাম জাতের কিছু ধান পাকতে শুরু করেছে এবং কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেছেন। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ মোকাবিলায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।”

রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মিতা সরকার জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যায্যমূল্যের প্রত্যাশা

ধান কাটার মৌসুমকে ঘিরে এখন তানোর ও গোদাগাড়ীর কৃষকদের ব্যস্ততা বাড়ছে। ভালো ফলনের প্রত্যাশার পাশাপাশি উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে চলতি মৌসুমে কৃষকের মুখে হাসি আরও উজ্জ্বল হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে ধান পুরোপুরি ঘরে না ওঠা পর্যন্ত অতিবৃষ্টি, ঝড় কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]