শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

যৌতুকের বলি স্ত্রী-কন্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক রিপোর্ট
৫৬ মিনিট আগে
যৌতুকের বলি স্ত্রী-কন্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
যৌতুকের বলি স্ত্রী-কন্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী-কন্যা হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার, সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলার পটভূমি ও অভিযোগ

মামলার রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ দায়িত্ব পালন করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার কালীগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আবদুল্লাহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬), যিনি কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি সরদারপাড়ার বাসিন্দা, তার এজাহারে উল্লেখ করেন যে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে তার মেয়ে সাবিনা ইসলামকে (২৬) আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয়। আসামির মায়ের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য যৌতুক দাবি করা হয়। এই বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

News details square ads

নির্মম হত্যাকাণ্ড ও বিচার প্রক্রিয়া

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে বাদী জাহানারা খাতুন জেগে ওঠেন। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি তার মেয়ে সাবিনা ইসলাম এবং নাতনি আয়েশা সিদ্দিকা আক্তারকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। মামলায় আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও ছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামি আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

সামাজিক ব্যাধির করুণ পরিণতি

রায় ঘোষণার সময় জানা যায়, আসামি আব্দুর রউফ সরদার জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে মা ও শিশুকন্যার এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। এই রায় সমাজে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]