পটভূমি
ইরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, এটিকে 'সম্মিলিত শাস্তি' হিসেবে আখ্যায়িত করে। তেহরান হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা এবং আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দায়ী করেছে। এই অভিযোগগুলো ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যেখানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
ইরানের অভিযোগ
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করে। তার মতে, এই অবরোধ ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর 'সম্মিলিত শাস্তি' চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।
“যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে বেসামরিক মানুষের খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ হুমকির মুখে পড়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

ইরাভানি আরও উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি এবং আঞ্চলিক নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার জন্য ওয়াশিংটন ও তাদের সমর্থকেরাই দায়ী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপগুলোকে ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে নেওয়া 'সম্মিলিত শাস্তি' হিসেবে অভিহিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ কার্যকর রয়েছে বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, কোনো ইরানি জাহাজই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি। এই বিপরীতমুখী অবস্থান দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ, যা দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতা বা অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা বিদ্যমান।


