শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

কুমিল্লায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে জখম: পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট
১ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে জখম: পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ
কুমিল্লায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে জখম: পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

ঘটনার সূত্রপাত: বৃদ্ধাকে কুপিয়ে জখম

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পাঁচোড়া গ্রামে গত ৪ অক্টোবর, ২০২৬ গভীর রাতে জাহানারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আহতের ছেলে রমজান হোসেন প্রতিবেশী মিজানুর রহমানকে (৬০) প্রধান আসামি করে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই রাতে আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে জাহানারা বেগম তার শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন ঘরে ঢুকে তাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এতে তার মাথার খুলি ভেঙে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।

ঘটনার পর স্বজনেরা জাহানারা বেগমকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে যে, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মিজানুর রহমানকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

News details square ads

মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

এদিকে, এই ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে আটক মিজানুর রহমানকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত ও শারীরিক নির্যাতন করছেন।

পূর্বশত্রুতার জেরে মিজানুর রহমানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্জন স্থানে মারধর, জোরপূর্বক তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ এবং নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে অপর একটি মামলা হয়েছে। এই মামলায় চারজনকে সুনির্দিষ্ট এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ও পাঁচোড়া এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি মিজানুর রহমানের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক আটক করেন। এরপর পয়াতের জলা এলাকার রেললাইনসংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে কিল-ঘুষি, লাথি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এই মামলায় মোহাম্মদ হান্নান (৪৫), রাসেল (৪০), মোহাম্মদ সোহেল (৪০) এবং মোহাম্মদ রমজান কালাম অপু (৩২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় মিজানুর রহমানকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মিজানুর রহমানের মেয়ে ফেরদৌসী জান্নাত দাবি করেন, তার বাবাকে এলাকার কিছু সন্ত্রাসী বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করেছে।

তদন্ত ও অন্যান্য অসঙ্গতি

বুড়িচং থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় দুই পক্ষই মামলা করেছে। এর মধ্যে এক পক্ষ থানায় এবং অপর পক্ষ আদালতে মামলা করেছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

ঘটনার পর প্রকৃত হামলাকারী কারা, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি। প্রথম এজাহারে মিজানুর রহমানকে প্রধান অভিযুক্ত করা হলেও অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার পেছনে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা পূর্বশত্রুতার বিষয় থাকতে পারে এবং সেই বিরোধের জেরে মিজানুর রহমানকে ফাঁসানো হয়েছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।

এছাড়াও, আহত জাহানারা বেগমকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার কথা এজাহারে উল্লেখ থাকলেও সেখানে তার ভর্তির কোনো দাপ্তরিক নথি পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার সাক্ষী শাহানা আক্তারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,

আমাকে সাক্ষী করা হয়েছে অথচ আমি কিছুই জানি না এবং এই ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই দেখিনি।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]