শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

শাপলা চত্বর গণহত্যা: হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

ডেস্ক রিপোর্ট
১ ঘণ্টা আগে
শাপলা চত্বর গণহত্যা: হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
শাপলা চত্বর গণহত্যা: হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

পটভূমি

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত কথিত গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ, রবিবার, ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানির পূর্বাপর

এর আগে গত ৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে, সে সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। গত ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশন পক্ষ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। সেদিন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে মোট ১১ জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।

পলাতক আসামিদের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা

গত ৩ সেপ্টেম্বর হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও তারা আদালতে হাজির হননি। এরপর মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ৩০ আসামিকে পলাতক বিবেচনা করে তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স বা রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছিল।

News details square ads

গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক আসামিদের তালিকা

এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন: তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রুপা।

মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক পরিবেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক এমপি সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মারুফ হাসান, অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অব.) এসএম শিবলী নোমান এবং মতিঝিল থানার ওসি বিএম ফরমান আলী।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ

অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন সরকার ২০১৩ সালের ৫ মে পরিকল্পিতভাবে হেফাজতে ইসলামের নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর গণহত্যা চালায়। ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন।

বৈঠকে তিনি হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের যেকোনো উপায়ে রাতের মধ্যেই শাপলা চত্বর থেকে বিতাড়িত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ পেয়ে তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যৌথ সভা করেন। সভায় শাপলা চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো নিজ নিজ বাহিনীর নামে অভিযানের নামকরণ করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র‍্যাবের অভিযানের নাম ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির অভিযানের নাম ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। তবে অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযানের নামকরণের ধরন থেকেই স্পষ্ট হয়, এটি কোনো সাধারণ অভিযান ছিল না।

অভিযানের ভয়াবহতা ও হতাহতের তথ্য

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাত আড়াইটার দিকে সর্বোচ্চ মাত্রায় অভিযান শুরু হয়। সমাবেশস্থলে উপস্থিত হেফাজতের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, খণ্ড-বল প্রজেক্টাইল ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেন। এতে ঘটনাস্থলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় হেফাজতের নেতাকর্মীরা জীবন বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। হতবিহ্বল নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের জীবন রক্ষার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হেফাজতের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে বেপরোয়াভাবে শর্টগান ও মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি চালান। হেফাজতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পথে ঢাকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তাঁরা। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রাতের অভিযান এবং দিনব্যাপী হামলা ও আক্রমণে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও এর আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতাকর্মী শহীদ ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন শহীদ হন। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]