শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদীয় কমিটির তীব্র ক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট
২ ঘণ্টা আগে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদীয় কমিটির তীব্র ক্ষোভ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদীয় কমিটির তীব্র ক্ষোভ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ

জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে গুরুতর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা এবং টিকিট বিক্রিতে অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

অডিট আপত্তিতে ৭৮৩ কোটি টাকা জড়িত

বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১১১টি অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে মোট ৭৮৩ কোটি টাকা জড়িত। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আপত্তিগুলোর কয়েকটি ১৯৮২-৮৩ অর্থবছর থেকে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কর্তৃক প্রণীত অডিট প্রতিবেদনের বিষয়ে কমিটির পূর্ববর্তী নির্দেশনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করার সময় এই তথ্য উঠে আসে।

অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি ও টিকিট বিক্রির অনিয়ম

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য জানান, এত দীর্ঘ সময় ধরে অডিট আপত্তিগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ না নেওয়ায় কমিটি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। যদিও বিমান কর্তৃপক্ষ ১৩ কোটি টাকার আপত্তি নিষ্পত্তির দাবি করেছে, তবে এর স্বপক্ষে কোনো প্রয়োজনীয় নথি বৈঠকে উপস্থাপন করতে পারেনি। তাই আগামী বৈঠকে নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিমানের টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম এবং টিকিট বিক্রির অর্থ যথাযথভাবে আদায় না হওয়ার অভিযোগ নিয়েও কমিটির সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন।

News details square ads

সংসদ সদস্যদের লাগেজ ভোগান্তি ও অভিযোগ

গত ১ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ৩৪ জন সংসদ সদস্য লাগেজ নিয়ে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হন। লাগেজ যথাযথভাবে বুঝিয়ে না দেওয়া, যাত্রী হয়রানি এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে তারা বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই অভিযোগের কোনো জবাব না পাওয়ায় বৈঠকে একাধিক সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুঃখ প্রকাশ ও প্রতিশ্রুতি

সংসদ সদস্যদের ক্ষোভের মুখে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অভিযোগের জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কমিটির সদস্য কামাল হোসেন এমপি জানান, জমজমের পানি না পাওয়া এবং যাত্রী হয়রানির ঘটনায় সৃষ্ট অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে লিখিত অভিযোগের জবাব না পাওয়ায় এমডির কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছিল।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশ

বৈঠকে বিমানবন্দরে কোনো যাত্রী যাতে অবহেলা বা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কে আরও দক্ষ ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]