দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা আসার পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন—এই সুবিধা প্রথমে কারা পাবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষায় থাকবেন।
সরকারের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে যে নবম পে-স্কেলের প্রধান সুবিধাভোগী হচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চলতি বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট খাতে সম্ভাব্য সমন্বয়ের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে বেতন বৃদ্ধি একবারে কার্যকর হচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় সংশোধিত মূল বেতনের একটি অংশ প্রথম ধাপে এবং অবশিষ্ট অংশ পরবর্তী ধাপে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা পরবর্তীতে সমন্বয়ের পরিকল্পনাও আলোচনায় আছে। ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও সব কর্মচারী শুরু থেকেই পূর্ণ সুবিধা পাবেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডে উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেডভিত্তিক সুবিধার সুনির্দিষ্ট চিত্র পরিষ্কার হচ্ছে না।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসতে পারেন। পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে তাদের ক্ষেত্রে সুবিধা কার্যকরের সময়সূচি, বেতন বা পেনশন পুনর্নির্ধারণের পদ্ধতি এবং সরকারি চাকরিজীবীদের মতো একই কাঠামো অনুসরণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
এদিকে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হলেও কোথাও নিজস্ব চাকরি বিধিমালা কার্যকর রয়েছে। ফলে তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বোর্ড, কর্তৃপক্ষ বা মন্ত্রণালয়ের পৃথক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে এ খাতের কর্মীদের জন্য এখনই নিশ্চিত কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি সচিব কমিটির বৈঠকে জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশগুলো নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, বাকি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হওয়ার পর সরকার বিস্তারিত বাস্তবায়ন নির্দেশনা প্রকাশ করবে।
সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের দাবির পর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা ইতিবাচক হলেও প্রকৃত স্বস্তি আসবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি এবং বর্ধিত বেতন হাতে পাওয়ার পর। তাদের মতে, বাস্তবায়নের রূপরেখা ও গেজেট প্রকাশই নির্ধারণ করবে কে দ্রুত সুবিধা পাবেন এবং কাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।


