সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬: ফুটবলের আমেজ ঢাকায়
আগামীকাল, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ থেকে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল আসর। চতুর্থবারের মতো ঘরের মাঠে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে পেরে বাংলাদেশ ফুটবল অঙ্গনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এর আগে ২০০৩, ২০০৯ এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সফলভাবে সাফের আয়োজন করেছিল।
৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান, যাদের ম্যাচটি শুরু হবে বেলা ৩:৩০টায়। একই দিনে রাত ৮টায় স্বাগতিক বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভুটানের।
অংশগ্রহণকারী দল ও ম্যাচের কাঠামো
এবারের আসরে মোট ছয়টি দেশ অংশ নিচ্ছে: স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপ। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল দুটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চূড়ান্ত রূপ নেবে।

আয়োজন ও প্রস্তুতিতে চ্যালেঞ্জ
মূলত ২০২৫ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা এক বছর পিছিয়ে যায়। আয়োজক শ্রীলঙ্কা নিজেদের সীমাবদ্ধতার কারণে সরে দাঁড়ালে বাংলাদেশ নতুন আয়োজক হিসেবে সুযোগ পায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াচ্ছে। যদিও অতীতের আসরের তুলনায় এবার প্রচার ও আমেজ তৈরিতে কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, তবে টুর্নামেন্ট শুরু হলে দর্শকদের আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়ন দল এবং ২০১০ সালের এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী দল একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে।
বাংলাদেশের লক্ষ্য: শিরোপা পুনরুদ্ধার
সাফের ইতিহাসে বাংলাদেশ একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেটি ছিল ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে। সেবার আমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন দল শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল। দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপার খরা কাটাতে এবার বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ দল। হামজা, শমিতসহ একঝাঁক অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দলটি কোচ থমাস ডুলির অধীনে প্রথমবার সাফ খেলছে। ডুলি তার লক্ষ্য সম্পর্কে বলেছেন,
“আমি প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই।”
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রস্তুতি
এবারের সাফে অংশ নিতে বিদেশি দলগুলোর মধ্যে ভুটান সবার আগে ঢাকায় আসে। এরপর ভারত, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দলগুলো এসে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে। ভারত যদিও দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়েছে, তবুও তাদের লক্ষ্য সাফের দশম শিরোপা জয় করা। ভারতের কোচ নওশাদ মুসা ঢাকায় এসে জানিয়েছেন,
“আমি মনে করি, এই মুহূর্তে বাংলাদেশই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আশা করি, ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হব।”
মুসা মনে করেন, পূর্ণ শক্তির দল না থাকায় ভারত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, তবে তার দলটি খারাপ নয়। ২০০৯ সালে ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে খেলে ফাইনালে মালদ্বীপকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তাই তাদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানও শক্তিশালী দল নিয়ে এসেছে, যেখানে অনেক প্রবাসী ফুটবলার ইউরোপের লিগে নিয়মিত খেলেন। আশা করা হচ্ছে, মাঠের লড়াইয়ে দলগুলো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে এবং দর্শকরা ফুটবলের নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।


