শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

দুই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেকে আড়াই হাজার গবেষকের নেটওয়ার্ক: ইনোভেটিভ রিসার্চ সেন্টার

ডেস্ক রিপোর্ট
২ ঘণ্টা আগে
দুই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেকে আড়াই হাজার গবেষকের নেটওয়ার্ক: ইনোভেটিভ রিসার্চ সেন্টার
দুই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেকে আড়াই হাজার গবেষকের নেটওয়ার্ক: ইনোভেটিভ রিসার্চ সেন্টার
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

গবেষণার প্রতি তরুণদের আগ্রহ থাকলেও প্রায়শই সঠিক দিকনির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে তারা বাধার সম্মুখীন হন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আকিব হাসান দীপু এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকিবুল হাসান একটি অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা ইনোভেটিভ রিসার্চ সেন্টার (আইআরসি) বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ও গবেষকের একটি বিশাল নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত হয়েছে।

গবেষণায় আগ্রহী তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণাপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিতি এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ অক্টোবর ঢাকার নিকুঞ্জ-২ এলাকায় আইআরসির প্রথম ঢাকা শাখার উদ্বোধন করা হয়, যা প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও উদ্দেশ্য

২০২৫ সালের শুরুতে আকিব হাসান দীপু ও রাকিবুল হাসান যখন নিজেরা গবেষণায় যুক্ত হতে চেয়েছিলেন, তখন তাঁরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, তথ্য এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগের অভাব তীব্রভাবে অনুভব করেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা গবেষণার মৌলিক বিষয় থেকে শুরু করে আধুনিক গবেষণাপদ্ধতি পর্যন্ত শেখার সুযোগ পাবে।

News details square ads

আইআরসির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আকিব হাসান দীপু বলেন, “আমরা যখন গবেষণা শুরু করতে চেয়েছি, তখন অনেক কিছুই খুঁজে খুঁজে নিজেদের শিখতে হয়েছে। সেই কষ্টটা আমরা জানি। তাই ঠিক করেছিলাম, যে পথে আমরা হোঁচট খেয়েছি, পরের প্রজন্মের জন্য সেই পথটা সহজ করে দেব।”

বড় পুঁজি বা প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো ছাড়াই শুরু হওয়া এই উদ্যোগে বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক এবং পেশাজীবীরা যুক্ত হয়েছেন। আইআরসির মূল দর্শন হলো, কেবল গবেষণাপত্র প্রকাশের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গবেষণাদক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা।

কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ

আইআরসি স্নাতক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের গবেষণার পদ্ধতি বোঝা, বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণ এবং দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সরকারি, বেসরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি গবেষণা সহকারী, শিক্ষক এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেকনোলজি খাতের পেশাজীবীরাও প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

আইআরসির প্রধান একাডেমিক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক সাব্বির আহমেদ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একজন শিক্ষার্থীকে কোর্স করানো নয়; বরং এমনভাবে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা, যেন সে নিজে শেখার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান অন্যদেরও শেখাতে পারে।”

গবেষণার প্রশিক্ষণে আর্থিক সীমাবদ্ধতা যেন বাধা না হয়, সে লক্ষ্যে আইআরসি প্রতি মাসে অন্তত একটি বিনামূল্যের গবেষণা কর্মশালা আয়োজন করে। এসব কর্মশালায় নতুনদের জন্য প্রাথমিক ধারণা, গবেষণার কাজ শুরুর পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়াও, আইআরসি বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স, ইন্টার্নশিপ ও কর্মশালা পরিচালনা করে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • বায়োইনফরমেটিক্স ও কম্পিউটেশনাল বায়োলজি
  • কম্পিউটার-এইডেড ড্রাগ ডিজাইন (সিএডিডি)
  • নেটওয়ার্ক ফার্মাকোলজি ও আরএনএ সিকুয়েন্স বিশ্লেষণ
  • মলিকুলার ডায়নামিক্স ও মাল্টি-ওমিক্স
  • ওষুধ আবিষ্কারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ
  • গবেষণা পদ্ধতি ও গবেষণায় পাইথনের ব্যবহার
  • বৈজ্ঞানিক লেখালেখি ও গবেষণাপত্র প্রকাশনা
  • উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি

বাংলা ভাষায় গবেষণামূলক প্রকাশনা

বাংলা ভাষায় গবেষণাবিষয়ক শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতি পূরণে আইআরসি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশ করেছে: ‘দি ফিউচার ইজ বিইনফরমেটিক্স’ এবং ‘গবেষণার ক্যানভাস’। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো, জটিল গবেষণাবিষয়ক ধারণাগুলো সহজ ভাষায় উপস্থাপন করে নতুনদের শেখার পথকে আরও সুগম করা।

নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ

দুই শিক্ষার্থীর উদ্যোগে শুরু হওয়া আইআরসির কার্যক্রম এখন একটি সুসংগঠিত কাঠামো লাভ করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ১০ সদস্যের মূল দলের পাশাপাশি রয়েছে একটি গবেষণা দল, অপারেশনস অ্যাসোসিয়েটস এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস সমন্বয়কারীরা।

প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, “আমরা চাই একজন শিক্ষার্থী আইআরসি-এ এসে শুধু একটি কোর্স শেষ করবে না, বরং একটি বৃহত্তর গবেষণাভিত্তিক নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে উঠবে।”

এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল জ্ঞান অর্জনই নয়, বরং একে অপরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সম্মিলিতভাবে গবেষণায় অবদান রাখার সুযোগ পাচ্ছেন।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]