শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

১৮তম বিজেএসে ইবির ১৯ শিক্ষার্থীকে সহকারী জজ পদে সংবর্ধনা

ডেস্ক রিপোর্ট
২ ঘণ্টা আগে
১৮তম বিজেএসে ইবির ১৯ শিক্ষার্থীকে সহকারী জজ পদে সংবর্ধনা
১৮তম বিজেএসে ইবির ১৯ শিক্ষার্থীকে সহকারী জজ পদে সংবর্ধনা
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

ইবিতে ১৯ সহকারী জজকে সংবর্ধনা

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী জজ (সিভিল জজ) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৯ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আইন অনুষদের তত্ত্বাবধানে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ

আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ নাজিমুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। এছাড়া আইন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা

১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন:

News details square ads
  • আইন বিভাগ: আরিফুল ইসলাম (২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ), আসিফ হোসেন ও শফিক শোভন (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ), সাদিয়া আফরিন খান (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ), অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ও অ্যাডভোকেট সালমা খাতুন (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ), মেহবুবা মোহিনী, শাকির আলম, রফিকুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, শারমিন খাতুন ও ইয়াসমীন খাতুন (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ), খালিদ লিখন (২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ), আমজাদ হোসেন (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)।
  • আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ: তৌহিদুল ইসলাম ও এ. এইচ. হাবিব (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ), নুসরাত জাহান তানি (২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ), রোকনুজ্জামান রায়হান (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)।
  • আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগ: রাজু আহমেদ (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)।

শিক্ষার্থীদের অনুভূতি ও অঙ্গীকার

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাঁদের সাফল্যের জন্য সৃষ্টিকর্তার রহমত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ তার সুনাম ও মান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাঁরা আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের সংবর্ধনা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার জন্য তাঁরা সকলের দোয়া কামনা করেন।

উপাচার্যের দিকনির্দেশনা

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ১৮তম জুডিশিয়ারিতে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে আইন পেশা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ গরিব মানুষের কল্যাণে আপনাদের কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুডিশিয়ারির ভাইভা বোর্ডে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি থাকলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধি থাকে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি বিজেএসসি'র অর্ডিন্যান্স পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। উপাচার্য বলেন, ইবির সকল অনুষদের শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও কার্যকর করার জন্য প্রশাসন সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে প্রস্তুত। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামীতে জুডিশিয়ারিতে ইবির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ থেকে ৫০-এ উন্নীত হবে।

ডিনের বক্তব্য

সভাপতির বক্তব্যে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাজিমুদ্দিন সুপারিশপ্রাপ্ত সকলকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে এমন আরও সংবর্ধনার আয়োজন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি পবিত্র সুরা আন-নিসার ১৩৫ আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়েছে, “তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ—যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা এবং নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। (যার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে) সে যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের উভয়েরই বেশি হিতাকাঙ্ক্ষী। সুতরাং ন্যায়বিচার করতে গিয়ে তোমরা প্রবৃত্তির অনুগামী হয়ো না। আর যদি তোমরা পেঁচাও অথবা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজের খবর রাখেন।”

সর্বশেষ তথ্য

সম্প্রতি প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী সহকারী জজ (সিভিল জজ) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এর মধ্যে আইন বিভাগ থেকে ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ থেকে চারজন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]