ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠানের অপকর্মে মাদরাসা শিক্ষা হুমকির মুখে
বাংলাদেশের মাদরাসাগুলোতে সংঘটিত বিভিন্ন অনৈতিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে অনুমোদনহীন এবং মানহীন কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি দৃঢ়ভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এসব প্রতিষ্ঠানের অপকর্মের কারণে সমগ্র মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা আজ হুমকির সম্মুখীন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে শনিবার প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান অপরাধী শিক্ষকদের রক্ষা করতে সত্য গোপন করে, তবে তা মাদরাসা ব্যবস্থার জন্য চরম ও অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে। তিনি টঙ্গীর সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়া এবং তদন্তবিহীন বা বিচারহীন ক্ষোভ প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
অপরাধ দমনে কর্তৃপক্ষের জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান
শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, “মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা। তারপরও এগুলো যেহেতু মাদরাসাই, এবং তাদের অপকর্মের কারণে যেহেতু পুরো মাদরাসা-ব্যবস্থা আজ হুমকির সম্মুখীন, তাই এগুলো দমনে মাদরাসা পরিচালনার সাথে যুক্ত কর্তৃপক্ষকেই জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি আরও জানান যে, মাদরাসার অপকর্ম রোধে করণীয় বিষয়ে তিনি ইতোপূর্বে ৩০ জনেরও বেশি শীর্ষ আলেমের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তা জনসচেতনতার জন্য প্রকাশ করেন।

আবাসিক মাদরাসার মর্যাদা রক্ষায় শীর্ষ আলেমদের ভূমিকা
বোর্ড বা প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে না থাকায় লেখা ও সচেতনতা তৈরির বাইরে তার কোনো দাপ্তরিক ক্ষমতা নেই উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলো লাখ লাখ এতিম-অসহায় শিক্ষার্থীর আশ্রয়স্থল ও দ্বীনি শিক্ষার মূল কেন্দ্র। এই কেন্দ্রগুলোর মর্যাদা ও জনআস্থা ধরে রাখতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসের দায় তাদেরকেই নিতে হবে।
অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা
অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টার কড়া সমালোচনা করে তিনি লেখেন, “এত কিছুর পরও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান শিক্ষক নামের কতিপয় অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, সমাধানের পথে না গিয়ে সত্য আড়াল করে, তবে এই লুকোচুরি মাদরাসার জন্য চূড়ান্ত ক্ষতি ডেকে আনবে, তখন আফসোস ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।”
আইন নিজের হাতে না নেওয়ার সতর্কবার্তা
টঙ্গীতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিচারহীন ক্ষোভ ও আইন নিজের হাতে নেওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অপরাধ প্রমাণের আগেই যদি শিক্ষকের ওপর চড়াও হওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে ওই শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের যে সম্মানহানি ও অপূরণীয় ক্ষতি হয়, তা কীভাবে পূরণ হবে?
শায়খ আহমাদুল্লাহ স্মরণ করিয়ে দেন যে, ধর্ম অবমাননাসহ কোনো ইস্যুতেই ইসলাম আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অনুমতি দেয় না। তাই মাদরাসা বা যেকোনো জায়গায় সংঘটিত অনাচারের বিরুদ্ধে সরব থাকার পাশাপাশি আমাদের ক্ষণিকের ক্রোধ যেন অন্যের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে।


