শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

বরিশালে ৩২০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ডেস্ক রিপোর্ট
১১ ঘণ্টা আগে
বরিশালে ৩২০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
বরিশালে ৩২০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বরিশাল জেলার ৩২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জরাজীর্ণ ভবনগুলোর কোথাও দেয়াল ফাটল, কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, এমনকি কোনো কোনো ভবনের ছাদ থেকে রডও বেরিয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তালিকা পাঠানো হলেও অনেক বিদ্যালয়ে এখনও কাজ শুরু হয়নি।

অবকাঠামোগত সমস্যা ও পাঠদান ব্যাহত

জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘকাল ধরে অবকাঠামোগত সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। অনেক শ্রেণিকক্ষে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে, আবার ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

  • বাবুগঞ্জ উপজেলার ছানিকেদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১৯৯৭ সালে নির্মিত এই ভবনটির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনটির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক।
  • বরিশাল সদর উপজেলার ৭৮ নম্বর আদর্শ মাতৃমন্দির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১৯৯৫ সালে নির্মিত এই ভবনটি প্রায় পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার করা হয়নি বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিন্টু কুমার কর।

অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা ও দাবি

বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকেরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, পাঠদান চলাকালে ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তাঁরা দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

News details square ads

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, “জেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা তৈরি করে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে।”

সংস্কারের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কিছু বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্রের সংকটও রয়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ার কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

বরিশাল জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব বিদ্যালয়ের সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।”

তবে সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের কাজ ঠিক কবে নাগাদ শুরু হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলোতে পাঠদানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সম্ভাব্য দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]