দ্রুত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারীরা। আগামী ১২ জুন সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বড় ধরনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা। দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে লাগাতার ও আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ' আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত সংকট নিরসনের আহ্বান জানান।
দীর্ঘ বঞ্চনা ও মুদ্রাস্ফীতির চাপে কর্মচারীরা

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. লুৎফর রহমান জানান, বিগত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা নতুন কোনো পে-স্কেল পাননি। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে পুঞ্জীভূত মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৮ শতাংশ। ফলে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো দিয়ে ২০২৬ সালে এসে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কর্মচারীরা এখন চরম অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন।
বিগত ও বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
বক্তারা অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকার ৯ম পে-স্কেলের বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও পে-কমিশন গঠনের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখে বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কর্মসূচি ও সংহতি
১২ জুনের এই অবস্থান কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন:
সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এম এ হান্নান
বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের মো. সেলিম মিয়া
১৭-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী সমিতির মো. রফিকুল আলম
সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের খায়ের আহমেদ মজুমদার
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির খায়রুন নাহার লিপি-সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ঐক্য পরিষদের নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্যের বাজারে টিকে থাকতে হলে নবম পে-স্কেল ঘোষণার কোনো বিকল্প নেই। মানবিক কারণে এবং কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়ে এই গেজেট দ্রুত প্রকাশ করার জন্য তারা সরকারের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায় ১২ জুনের কর্মসূচি থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা।


