বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা জারি: কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রকোপ

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ভাইরাসের নতুন ও অত্যন্ত সংক্রামক একটি ধরনের কারণে দেশটিতে ইতোমধ্যেই ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সংকটের মূলে 'বান্ডিবুগিও' ধরন
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ইবোলার ধরনটি 'বান্ডিবুগিও' নামে পরিচিত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, চিকিৎসকদের হাতে এই বিশেষ ধরনটির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো কার্যকর প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে ডব্লিউএইচও একে ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ (PHEIC) হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা অনুযায়ী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা।

অস্পষ্ট বিস্তৃতি ও আন্তর্জাতিক তৎপরতা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কঙ্গোর গহীন অঞ্চলগুলোতে এই ভাইরাস ঠিক কতদূর ছড়িয়েছে তার সুনির্দিষ্ট চিত্র এখনো অস্পষ্ট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো একে 'অতিমারি' হিসেবে ঘোষণা না করলেও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা 'ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস' (MSF) বড় ধরনের উদ্ধার ও চিকিৎসাকাজ শুরু করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লক্ষণ ও সংক্রমণ ঝুঁকি
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলা একটি জুনোটিক রোগ যা মূলত বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়েছে। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
তীব্র জ্বর ও বমি।
শরীরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ।
শেষ পর্যায়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিকল (Organ Failure) হয়ে যাওয়া।
এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির লালা, রক্ত, ঘাম বা শরীরের যেকোনো তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে অন্য কেউ এতে সংক্রমিত হতে পারেন। শরীরে ভাইরাস প্রবেশের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে সর্বোচ্চ ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
পরিসংখ্যান ও শঙ্কা
ডব্লিউএইচও-র গত ৫০ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ইবোলার বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। গত অর্ধশতাব্দীতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি হলেও কেবল আফ্রিকা মহাদেশেই এই ভাইরাসে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গত বছরের আগস্টেও কঙ্গোয় ইবোলার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল, তবে এবারের নতুন রূপটি বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
