এমপিওভুক্তির নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের উদ্যোগ
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবি প্রসঙ্গে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার এই দাবি পূরণে কাজ করছে এবং এমপিও প্রদানের জন্য একটি নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পরই এমপিওভুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
“এ দাবি নিয়ে সরকার কাজ করছে। এমপিও দিতে হলে একটা নীতিমালা লাগে। সেই নীতিমালার কাজ চলছে। তারপরে আমরা বলতে পারব যে, নীতিমালা করে বসে আছেন, আমাদের এমপিও দিচ্ছেন না কেন?”
রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষ ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত ‘ইসলাম শিক্ষা বিস্তারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাবনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং নৈতিক শিক্ষায় ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে উত্থাপিত নোটিশ ও আলোচনার সুযোগ
বিএনপির এই সংসদ সদস্য জানান, তিনি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণের বিষয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংসদে একটি নোটিশ জমা দিয়েছেন। সংসদ অধিবেশন শুরুর আগের শুক্রবার নোটিশগুলোর লটারি অনুষ্ঠিত হয়। যদি তার নোটিশ লটারিতে ওঠে, তবে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ পাবেন এবং তার সমর্থনে অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও শিক্ষকদের পক্ষে কথা বলতে পারবেন।
ডা. টিপু আরও বলেন, শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়টি অধিক জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তিনি ৭১ বিধিতে একটি নোটিশ ৯ তারিখ সকালে জমা দেবেন, যা ১০ তারিখে সিরিয়ালে আসবে। এর মাধ্যমে তিনি দুই মিনিটের জন্য হলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া, ১১ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে উত্থাপনের জন্য তিনি তিনটি নোটিশ জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে এমপিওভুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি নোটিশ রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ
সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে তার সিরিয়াল থাকলে তিনি বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করতে পারবেন। অন্যথায়, লিখিত উত্তর পাওয়া যাবে, যা জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে। তিনি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে তার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলবেন এবং ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করবেন। এ ব্যাপারে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন যাতে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা তাদের দাবিগুলো সরাসরি তুলে ধরতে পারেন।


