জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের গুরুতর অভিযোগ
জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। এসব অপরাধের মধ্যে নির্মূল, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অন্যান্য ধরনের যৌন সহিংসতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলার অংশ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া নতুন এই প্রতিবেদনে কমিশন উল্লেখ করেছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা একটি 'ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলার' অংশ হয়ে উঠেছে। এতে আরও বলা হয়েছে যে, জাতীয়তা, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার শিকার হয়েছে শিশুরাও।
ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ১ হাজার ৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া, চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন।

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
প্রতিবেদনে গাজার পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশন বলেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েল গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বিস্তৃতি আরও বাড়ায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
যৌন সহিংসতা ও দায়মুক্তি
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন আরও জানিয়েছে যে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা, বশীভূত রাখা এবং তাদের সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলার উদ্দেশ্যে যৌন সহিংসতা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছেন, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে।


