ব্রিটিশ এমপিদের পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা ও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির দুই সংসদ সদস্য ক্লাইভ লুইস এবং লারা বার্ড অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে গিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। জর্ডান থেকে পশ্চিম তীরে প্রবেশের সময় তাদের এবং তাদের সফরসঙ্গীদের আটকে দেওয়া হয়। দুই এমপি জানিয়েছেন, আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক রাখা হয়েছিল।
সফরের উদ্দেশ্য
সংসদ সদস্য ক্লাইভ লুইস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারত্বের বিরোধিতাকারী সংগঠন প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল-এর দ্বিতীয় রামাল্লা কংগ্রেসে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এছাড়াও, জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার শিকার ফিলিস্তিনি কৃষকদের সাথে সময় কাটানোর কথা ছিল তাদের।
ক্লাইভ লুইস বলেন, “আমরা কোনো অন্যায় না করা সত্ত্বেও আট ঘণ্টার বেশি সময় আমাদের আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং তাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ অবিচার ও সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরতেই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম।”

ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অব্যাহত সমর্থন
অন্যদিকে, লারা বার্ড তার এক্স পোস্টে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নিপীড়ন ও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে এবং নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
লারা বার্ড উল্লেখ করেন, “ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নিপীড়ন ও গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এবং নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করে যাব।”
জাতিসংঘের প্রতিবেদন: ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
উল্লেখ্য, এর আগে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন জানিয়েছিল যে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া এক নতুন প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে সংঘটিত এসব অপরাধের মধ্যে নির্মূল, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অন্যান্য ধরনের যৌন সহিংসতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


