শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ক্ষমতা নির্ধারণে ৩ নভেম্বরের গুরুত্ব

ডেস্ক রিপোর্ট
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ক্ষমতা নির্ধারণে ৩ নভেম্বরের গুরুত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ক্ষমতা নির্ধারণে ৩ নভেম্বরের গুরুত্ব
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার বাকি মেয়াদে তার প্রভাব কতটা থাকবে, তা নির্ধারণে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটার এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত দেবেন। যদিও ট্রাম্পের নাম ব্যালটে নেই, তবুও এই নির্বাচনের ফলাফল তার প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষমতায় বড় প্রভাব ফেলবে।

কংগ্রেসের ভূমিকা ও বর্তমান অবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কংগ্রেসের। কংগ্রেসের দুটি কক্ষ রয়েছে—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। বর্তমানে উভয় কক্ষেই রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ। যদি কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানরা হারায়, তবে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পাশাপাশি তার সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর সুযোগ পাবে।

নির্বাচনের পরিধি

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও ফ্লোরিডা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে দেওয়া আসন পূরণ করা হবে। এর পাশাপাশি, ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন করবেন ভোটাররা।

News details square ads

ঐতিহাসিক প্রবণতা ও প্রভাব

প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটও এই সময়ে হয়ে থাকে। ফলে জাতীয় রাজনীতির বাইরেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এই নির্বাচনের প্রভাব রয়েছে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক টড বেল্টের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৪৬ সাল থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৬.৫টি আসন হারিয়েছে এবং সিনেটেও সাধারণত কয়েকটি আসন হারায়।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারবিষয়ক অধ্যাপক নাদিয়া ব্রাউন বলেন, “জাতীয় নির্বাচন বেশি মনোযোগ পেলেও অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন স্থানীয় পর্যায়ে। ব্যালটে থাকা স্থানীয় প্রস্তাব ও গণভোটের সিদ্ধান্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।”

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ

  • প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ সদস্যের মেয়াদ দুই বছর, তাই প্রতি দুই বছর পরপর সব আসনেই নির্বাচন হয়।
  • জনশুমারির ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর জনসংখ্যা অনুযায়ী আসন বণ্টন করা হয়।
  • ক্যালিফোর্নিয়ায় সর্বোচ্চ ৫২টি আসন এবং ওয়াইওমিং ও ভারমন্টের মতো কম জনসংখ্যার অঙ্গরাজ্যে মাত্র একটি করে আসন রয়েছে।
  • সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন পেতে হয়।
  • বর্তমানে রিপাবলিকানদের ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন রয়েছে।
  • অধ্যাপক বেল্টের ধারণা, প্রায় ৩৫টি আসনের ফলাফল দুই দলের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করে দিতে পারে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ

  • সিনেট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ, যার ১০০ সদস্যের প্রত্যেক অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে নির্বাচিত হন।
  • সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর, এবং প্রতি দুই বছর পরপর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়।
  • এবারের নিয়মিত নির্বাচনে ৩৩টি আসনে ভোট হবে, ফ্লোরিডা ও ওহাইওর বিশেষ নির্বাচন মিলিয়ে মোট ৩৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
  • বর্তমানে রিপাবলিকানদের ৫৩ জন এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৫ জন সদস্য রয়েছেন, সঙ্গে দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের জোটের সঙ্গে আছেন।
  • সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়িয়ে ৫১টিতে পৌঁছাতে হবে।

ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ ও অংশগ্রহণ

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো জীবনযাত্রার ব্যয়, যার মধ্যে জ্বালানির দাম, আবাসন ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ বৃদ্ধি অন্যতম। এছাড়াও প্রজনন অধিকার, অভিবাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থাও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ইউএসএফ্যাক্টসের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, ৪৪ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে এবং ৩৬ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ভোটার উপস্থিতি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় কম থাকে।

নির্বাচন-পরবর্তী প্রভাব

যদি ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তবে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দিতে পারবে এবং বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে তার প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্ত করার সুযোগ পাবে। এমনকি প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের প্রস্তাব অনুমোদনের ক্ষমতাও প্রতিনিধি পরিষদের রয়েছে। অধ্যাপক বেল্ট মনে করেন, প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিয়ে দুই দলের সংঘাত বাড়বে, যা সরকারি সংস্থাগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করে দিতে পারে।

অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে তারা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগও প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারক, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য ও রাষ্ট্রদূত রয়েছেন।

ফলাফল ঘোষণা ও 'রেড মিরাজ' সতর্কতা

৩ নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে প্রথম ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর ফল আসতে শুরু করবে। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কিছু আসনের ফল চূড়ান্ত হতে কয়েক দিন বা এমনকি কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে। অধ্যাপক বেল্ট সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনের শুরুতে প্রকাশিত ফল দেখে চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে ডেমোক্র্যাট ভোটাররা ডাকযোগে ভোট দিতে বেশি আগ্রহী হওয়ায়, কিছু অঙ্গরাজ্যে প্রথম দিকে রিপাবলিকান প্রার্থীরা এগিয়ে থাকতে পারেন। পরে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা হলে ব্যবধান কমে যেতে পারে, এমনকি এগিয়ে থাকা প্রার্থীও বদলে যেতে পারেন। এই পরিস্থিতিকে ‘রেড মিরাজ’ বলা হয়।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]