শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ভাগ্যপরীক্ষা: যুদ্ধ ও জনমতের প্রভাব

ডেস্ক রিপোর্ট
৩ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ভাগ্যপরীক্ষা: যুদ্ধ ও জনমতের প্রভাব
ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ভাগ্যপরীক্ষা: যুদ্ধ ও জনমতের প্রভাব
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

নেতানিয়াহুর ভাগ্যপরীক্ষা: যুদ্ধ ও জনমতের প্রভাব

আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে দেশটির দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক কঠিন ভাগ্যপরীক্ষার মুখোমুখি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতা, গাজায় চলমান যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা—সব মিলিয়ে তিনি ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছেন। তবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির শক্তিশালী অবস্থান এবং ইসরায়েলের জটিল নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে আবারও ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ তার সামনে রয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

জনমত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার ডানপন্থি মিত্রদের সঙ্গে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আইজেনকট ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সাবেক প্রধান এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। তার সমর্থকদের মধ্যে ডান ও মধ্যপন্থি উভয় ধারার ভোটারই রয়েছেন।

নেতানিয়াহুর নির্বাচনী কৌশল

নেতানিয়াহু তার নির্বাচনী প্রচারে যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। গত রোববার নেতানিয়াহু দাবি করেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলেই ইরানের হুমকি চূড়ান্তভাবে দূর করতে ট্রাম্প আবারও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

News details square ads

আইজেনকটের অভিযোগ ও বিকল্প প্রস্তাব

অন্যদিকে, আইজেনকট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভয় ছড়ানো, মিথ্যা বলা ও হুমকির রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, জনগণ যাকে নেতা হিসেবে বেছে নেবে, ট্রাম্প তার সঙ্গেই পূর্ণ সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবেন। আইজেনকট আরও বলেছেন, ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন ইরান সামরিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কূটনৈতিক সমঝোতার কথা বলেছেন তিনি।

সরকার গঠনে কট্টর ডানপন্থিদের ভূমিকা

নেতানিয়াহুকে আবারও সরকার গঠনের জন্য কট্টর ডানপন্থি নেতা ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোতরিচের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। পশ্চিমা কয়েকটি দেশ তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে জনমত জরিপে বেন গভিরের দল জিউইশ পাওয়ারের সমর্থন বেড়েছে।

অস্থির সময়ের নির্বাচন ও জনমতের বিভাজন

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে অস্থির সময়গুলোর একটির মধ্যে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলা, এরপর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সরকারের নীতি নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে গভীর বিভাজন—সবকিছুই নির্বাচনের আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। নেতানিয়াহুর বিরোধীদের কাছে নির্বাচনের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন হলো, ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় কে নেবে। ওই দিনটি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মী ও আইজেনকটের সমর্থক মালি হাজাজ বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন। কারণ, সেখান থেকেই আমাদের ক্ষত নিরাময় শুরু হবে।”

অন্যদিকে, ১৮ বছর বয়সি লিকুদ-সমর্থক নোফ গাবাই মনে করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করা ঠিক নয়। তার ভাষায়, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য নেতানিয়াহুই সঠিক ব্যক্তি। নেতানিয়াহু যুদ্ধ সবচেয়ে ভালোভাবে পরিচালনা করেছেন।”

ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সম্পর্ক ও আরব ভোটারদের প্রভাব

ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কয়েক দশক ধরে চলা শান্তি আলোচনার ভিত্তি ছিল দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। তবে ইসরায়েলের প্রায় সব ইহুদি-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলের মতো আইজেনকটও এই সমাধানের বিরোধী। তা সত্ত্বেও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার সমালোচনা করেছেন আইজেনকট। ২০২৩ সালের পর থেকে এ ধরনের সহিংসতা বেড়েছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটের হারও নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা ইসরায়েলের নাগরিক হলেও তাদের জাতিগত পরিচয় ফিলিস্তিনি। তাদের বেশি সংখ্যায় ভোট দেওয়া আইজেনকটের পক্ষে সরকার গঠনের জটিল সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে।

ভোটের ফলাফল ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি

নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট—কেউই সরকার গঠনের বিষয়ে নিশ্চিত অবস্থানে নেই। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠন করতে না পারলে আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ক্ষমতায় থাকতে পারেন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

ইসরায়েলের শালোম হার্টম্যান ইনস্টিটিউটের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমোৎস আসা-এল বলেন, “আমার ধারণা, দুই পক্ষের যেকোনো একটি খুব সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে। বড় ব্যবধানে কোনো পক্ষের জয়ের সম্ভাবনা নেই।”

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]