শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

২৮ অক্টোবরের ঘটনা: বিচার দাবিতে জামায়াতের নতুন কর্মসূচি

ডেস্ক রিপোর্ট
২ ঘণ্টা আগে
২৮ অক্টোবরের ঘটনা: বিচার দাবিতে জামায়াতের নতুন কর্মসূচি
২৮ অক্টোবরের ঘটনা: বিচার দাবিতে জামায়াতের নতুন কর্মসূচি
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে সংঘটিত লগি-বৈঠার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে নতুন করে সরব হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের শেষ দিনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার দুই দশক পূর্তিকে সামনে রেখে দলটি দেশজুড়ে আলোচনা সভা, বিক্ষোভ ও দোয়াসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ইস্যুটিকে চাঙ্গা করতে চাইছে।

কেন্দ্রঘোষিত ও মহানগরীর কর্মসূচি

জামায়াতে ইসলামী আজ থেকে কেন্দ্রঘোষিত দুদিনের কর্মসূচি শুরু করেছে। এর পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আট দিনের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তরও আলাদাভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে নতুন করে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান গতকাল (সোমবার) গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বৈঠার তাণ্ডব ছিল পূর্বপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী গণহত্যা। দেশের জনগণের দাবি—অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা পুনরায় সচল করে তাদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

জামায়াতের জেনারেল সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারও গত রোববার এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

News details square ads

ঘটনার পটভূমি ও অভিযোগ

দলীয় সূত্রমতে, ২৮ অক্টোবর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পল্টন এলাকায় লগি-বৈঠা ও অস্ত্র হাতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে দিনে-দুপুরে পিটিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয় এবং বহু নেতাকর্মী আহত হন। শুধু তাই নয়, মৃতদেহের ওপর নৃত্য-উল্লাসে মেতে ওঠে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসীরা।

সেদিন হাসিনার বাসভবন সুধাসদন থেকে অস্ত্র-গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়। এই বিভীষিকাময় ঘটনায় জাতিসংঘসহ দেশ-বিদেশে তীব্র নিন্দা ওঠে। পরে মামলা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করে নেয় এবং বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে সব নথি গায়েব করে দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই বিচার পুনরুজ্জীবিত করার নানা তৎপরতা চালানো হলেও তা সফল হয়নি।

জামায়াতের দুদিনের কর্মসূচি

লগি-বৈঠার তাণ্ডবে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে জামায়াত দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে:

  • ২৭ অক্টোবর (আজ): ঢাকা মহানগরীতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে জামায়াত আমির প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।
  • ২৮ অক্টোবর: সারা দেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আট দিনের কর্মসূচি

পল্টন ট্র্যাজেডি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আট দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  1. গত শনিবার: রাজধানীতে এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ।
  2. পরদিন রোববার: ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ব্লাড গ্রুপিং ও রক্তদান কর্মসূচি।
  3. গতকাল (সোমবার): সেমিনার আয়োজন।
  4. আজ (মঙ্গলবার): শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা।
  5. আগামীকাল (বুধবার) ২৮ অক্টোবর: শহীদদের কবর জিয়ারত ও বিক্ষোভ মিছিল।
  6. ২৯ অক্টোবর: থানা ও বিভাগের উদ্যোগে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী।
  7. ৩০-৩১ অক্টোবর: থানা ও বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা সভা।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের উদ্যোগেও নানা কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

বিচার পরিস্থিতি ও নতুন মামলার প্রস্তুতি

শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামসুন্নাহার জানান, আওয়ামী লীগ সরকার মামলা বন্ধ করে দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তা চালু হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা অনেক দাবি জানিয়েও কাজ হয়নি।”

এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক চেষ্টা করা হলেও মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয়নি সরকার। এখন আমরা নতুন করে এই দাবি জোরদার করব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ বিষয়ে নতুন করে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, ‘২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস’ উপলক্ষে জামায়াতের উদ্যোগে আজ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিরোধীদলীয় নেতার বিস্তারিত বিবৃতি

২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে নিহতদের স্মরণ করে গতকাল গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “২০০৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সারাদেশে লগি-বৈঠার তাণ্ডব সৃষ্টি করে।” তিনি জানান, সেদিন বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতের উদ্যোগে জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল এবং সকাল থেকে স্টেজ নির্মাণের কাজ চলছিল। হঠাৎ ১৪ দলীয় জোটের সন্ত্রাসীরা গোটা পল্টন এলাকায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ওপর লগি-বৈঠা, লোহার রড ও বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য শুরু হলে চারদিক থেকে ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে জনসমাবেশের দিকে অগ্রসর হয়। সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন আমিরে জামায়াত ও শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। জনসভায় উপস্থিত জনগণ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ওপর আক্রমণ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ওইদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পল্টন এলাকা লগি-বৈঠাধারীদের সন্ত্রাসী তাণ্ডবে এক রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত হয়।”

তিনি দাবি করেন, ১৪ দলের সন্ত্রাসীদের হামলায় ঢাকাসহ সারা দেশে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ১৪ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং সহস্রাধিক নেতাকর্মী আহত হন। তিনি বলেন, “আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে মৃতদেহের ওপর নৃত্য করে বর্বর আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে—যা বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত ও বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত নিন্দিত হয়। এই ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী গণহত্যা।”

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “লগি-বৈঠাধারীদের গণহত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা পুনরায় সচল করে তাদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি নিহতদের শহীদ হিসেবে কবুল করার জন্য দোয়া করেন এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]