আগামী বছরেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ হতে পারে সেশনজট: উপাচার্য
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা সেশনজট সংকট আগামী বছরের মধ্যেই পুরোপুরি দূর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত পরীক্ষা আয়োজন ও স্বল্প সময়ে ফল প্রকাশের মাধ্যমে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উপাচার্য বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেখেছেন সেশনজট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, পরীক্ষাগুলোর সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে এবং কার্যক্রম তদারকিতে বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফল হিসেবে ২০২৫ সালে প্রায় ৩০০টি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়েছে, যেখানে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, আগে পরীক্ষার ফল প্রকাশে পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগলেও বর্তমানে সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা যাচ্ছে। এতে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ সেশনজট কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সেশনজট প্রায় ৭০ শতাংশ কমে আসবে। আর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ নাগাদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট অতীতের বিষয় হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
উপাচার্য আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপযোগী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এজন্য নকলমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা, দ্রুত ফল প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিয়মিত পড়াশোনা ও একাডেমিক কার্যক্রমে মনোযোগী হলেই এই পরিবর্তনের সুফল সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাবে।


