পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পার হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়নি। ২০০১ সালের ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন পাস হয় এবং ২০০৮ সালের ৫ জুন থেকে এর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চা এবং গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও, সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়টির বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা, গবেষণা ও গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। এমনকি তাদের কয়েকজন বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকাতেও স্থান করে নিয়েছেন। এমন সাফল্যের পরও, তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিনিময়ের জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের অভাব অনুভূত হচ্ছে।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রয়োজনীয়তা
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও অর্জন বর্তমান শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজে লাগানো সম্ভব। বিশেষ করে, নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সহায়ক হতে পারে:

- ক্যারিয়ার গাইডলাইন: চাকরির প্রস্তুতি, উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিষয়ক দিকনির্দেশনা প্রদান।
- পেশাগত যোগাযোগ: ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরিতে সহায়তা।
- গবেষণা ও উন্নয়ন: গবেষণায় সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।
- শিক্ষার মানোন্নয়ন: আউটকাম বেইজড এডুকেশন (OBE) বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মতামত ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
পাবিপ্রবির দ্বিতীয় ব্যাচের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ইইই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাঃ অহিদুল ইসলাম, যিনি বর্তমানে সিটিগ্রুপের ইউকে বাংলা সিমেন্ট লিমিটেডে ডেপুটি ম্যানেজার ও ইন-চার্জ (ইলেকট্রিক্যাল) হিসেবে কর্মরত, এই বিষয়ে তার হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
প্রায় ১৮ বছর পার হলেও পাবিপ্রবিতে একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে না ওঠা হতাশাজনক। একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন, চাকরির প্রস্তুতি, ইন্টার্নশিপ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ও বি ই) বাস্তবায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠুক, যা সব ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীর অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আশা করছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ ও ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি অভিন্ন নেটওয়ার্কে যুক্ত করা, তাদের কর্মক্ষেত্র ও গবেষণার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ক্যারিয়ারবিষয়ক কার্যক্রম আয়োজন করা সম্ভব হবে।


