শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি: এক বছরেই ৩ শতাংশ বেড়ে ১৬.২৫%

ডেস্ক রিপোর্ট
২ ঘণ্টা আগে
প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি: এক বছরেই ৩ শতাংশ বেড়ে ১৬.২৫%
প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি: এক বছরেই ৩ শতাংশ বেড়ে ১৬.২৫%
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সাম্প্রতিক শিক্ষা পরিসংখ্যান প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৩.১৫ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬.২৫ শতাংশে। এই পরিসংখ্যান প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ঝরে পড়ার হারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ব্যানবেইসের এই তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি (এপিএসএস) ২০২৪ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২১ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৪.১৫ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ১৩.৯৫ শতাংশ। ২০২৩ সালে এই হার কিছুটা কমে ১৩.১৫ শতাংশে নেমে এলেও, পরের বছরই তা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১০ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ছিল ৩৯.৮০ শতাংশ, যা বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের ফলে ধারাবাহিকভাবে কমে আসছিল। দীর্ঘ ১৪ বছর নিম্নমুখী প্রবণতার পর এই বৃদ্ধি শিক্ষাবিদদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সরকারের উদ্যোগ ও মহাপরিচালকের বক্তব্য

প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহীনা ফেরদৌসী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম লক্ষ্য হলো কোনো শিশুকে যেন শিক্ষা থেকে ঝরে পড়তে না দেওয়া। তিনি বলেন, “একটি শিশুও যেন প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বাদ না পড়ে, সেটিই মূল উদ্দেশ্য।”

News details square ads

শাহীনা ফেরদৌসী আরও বলেন, “শিশুদের জামা, জুতা, ব্যাগ এবং মিড-ডে মিলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিনা মূল্যে বই দেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমরা 'আনন্দের স্কুল' সহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিশুদের দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবিক গুণাবলির বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপবৃত্তি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও রয়েছে, যা ঝরে পড়া রোধে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঝরে পড়া নাকি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন?

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, 'ঝরে পড়া' হিসেবে চিহ্নিত সকল শিক্ষার্থীই যে সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার বাইরে চলে যাচ্ছে, এমনটা নাও হতে পারে। তাদের একটি অংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছেড়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল বা মাদ্রাসায় স্থানান্তরিত হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানবিদ (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) আমিনুল হক জানান, ঝরে পড়ার তথ্যগুলো কেবল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মো. ফজলুর রহমান এই ধারণাকে সমর্থন করে বলেন, “যারা ঝরে পড়ছে বলে দেখানো হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশ সামর্থ্য অনুযায়ী ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে যাচ্ছে। আরেকটি অংশ মাদ্রাসায় চলে যাচ্ছে।” এই বিষয়টি বিবেচনা করে প্রকৃত ঝরে পড়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের চিত্র আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি বলে শিক্ষাবিদরা মনে করেন।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]