শিক্ষাপথ
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]

প্রাথমিকে প্রথমবারের মতো 'মিউচুয়াল ট্রান্সফার' শুরু: আশার আলো হাজারো শিক্ষকের মনে

ডেস্ক রিপোর্ট
১ ঘণ্টা আগে
প্রাথমিকে প্রথমবারের মতো 'মিউচুয়াল ট্রান্সফার' শুরু: আশার আলো হাজারো শিক্ষকের মনে
প্রাথমিকে প্রথমবারের মতো 'মিউচুয়াল ট্রান্সফার' শুরু: আশার আলো হাজারো শিক্ষকের মনে
Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৬০ ]

প্রাথমিকে পারস্পরিক বদলির সূচনা: লালমনিরহাটে প্রথম দৃষ্টান্ত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে 'মিউচুয়াল ট্রান্সফার' বা পারস্পরিক বদলি প্রক্রিয়া। দূরবর্তী কর্মস্থলে পদায়ন, দীর্ঘ যাতায়াত এবং পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি শিক্ষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দুজন শিক্ষকের বিদ্যালয় অদলবদল করে সংশোধিত পদায়ন আদেশ জারি করেছে, যা এই প্রক্রিয়ার প্রথম দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আদেশের বিস্তারিত

গত ২৫ অক্টোবর লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে হাতীবান্ধা উপজেলার দুই সহকারী শিক্ষকের কর্মস্থল পারস্পরিকভাবে পরিবর্তনের তথ্য জানানো হয়। এই আদেশের মাধ্যমে একজন শিক্ষকের পূর্বের পদায়নকৃত বিদ্যালয়ের স্থলে অন্যজনের বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করে সংশোধিত আদেশ প্রদান করা হয়।

  • মাহবুবা আক্তার নূপুর: তাঁর পূর্বের পদায়নকৃত পশ্চিম ঠেংঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে ডাউয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • মো. আব্দুর রহিম: তাঁর পূর্বের পদায়নকৃত ডাউয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে পশ্চিম ঠেংঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশোধিত আদেশে আরও বলা হয়েছে যে, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষককে ১৮ অক্টোবর অপরাহ্নে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের ১৯ অক্টোবর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে রিপোর্ট করতে এবং ২৬ অক্টোবর সংশোধিত পদায়নকৃত বিদ্যালয়ে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে অবমুক্তির তারিখ থেকেই তাঁরা বেতন-ভাতা পাবেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

News details square ads

দূরবর্তী কর্মস্থলের ভোগান্তি

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক সহকারী শিক্ষককে নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরের বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়, যা তাঁদের জন্য নানা ভোগান্তির কারণ। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের জন্য যাতায়াত ব্যয়বহুল এবং প্রতিদিন যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাসস্থান নিশ্চিত করা, পরিবারের দায়িত্ব পালন এবং নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা করাও অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করে, কারণ তাঁদের কর্মস্থলের পাশাপাশি সন্তানদের দেখাশোনা ও অন্যান্য পারিবারিক দায়িত্বও পালন করতে হয়।

সহকারী শিক্ষক নাসরিন আক্তার, যাঁর বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায়, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, “আমার স্বামীর কর্মস্থল থেকে আমার বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ২৫ থেকে ২৭ কিলোমিটার। স্বামী থাকেন পূর্ব দিকে, আর আমার কর্মস্থল পড়েছে পশ্চিম দিকে। ফলে সন্তানের দেখাশোনা ও পারিবারিক দায়িত্ব কীভাবে সামলাব, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।”

নাসরিন আক্তার আরও জানান যে, তিনি আপাতত কয়েক দিন সন্তানকে তাঁর মায়ের কাছে রেখে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবেন। তবে দীর্ঘ মেয়াদে কীভাবে সন্তানকে দেখাশোনা করবেন এবং চাকরির পাশাপাশি পারিবারিক দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাঁর মতো অনেক শিক্ষকই পারস্পরিক বদলির সুযোগ কার্যকর হলে কর্মস্থলসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন।

চরাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের চ্যালেঞ্জ

চরাঞ্চল, হাওরাঞ্চল এবং অন্যান্য প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য কর্মস্থলে যাতায়াত প্রায়শই বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয় অথবা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়। প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এসব এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত এবং আবাসনের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। পারস্পরিক বদলি এই সকল শিক্ষকদের জন্য একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।

Advertisement[ বিজ্ঞাপন — ৯৭০×৯০ ]