পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের হোসেনিয়া হাইস্কুলের সামনের মাঠ থেকে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে দুর্বৃত্তরা ছোট-বড় মিলিয়ে ৫টি গাছ কেটে ফেলেছে। কেটে ফেলা গাছগুলোর মধ্যে দুটি বড় মেহগনি এবং একটি বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ ছিল, যা বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পূজার ছুটির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এই গাছগুলো বিদ্যালয়ের মাঠে ছায়া দিত এবং কৃষ্ণচূড়া গাছটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করত।
শিক্ষার পরিবেশ হুমকির মুখে
প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি এই দুর্বৃত্তরাই এলজিইডির পাকা সড়ক জবরদখল করে বিদ্যালয়ের মাঠ বরাবর একটি রাস্তা তৈরি করেছে। এই রাস্তা তৈরির ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চরম হুমকিতে পড়েছে এবং শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, “স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলে জবরদখলকারীরা এখন বিদ্যালয় ভবনসহ মাঠ দখলের চেষ্টা করছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনের ভূমিকা
এলাকাবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অনগ্রসর এই এলাকায় হোসেনিয়া স্কুল শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির সাদ্দাম, নমাজ আলী, গোলাম মোস্তফাসহ একটি চক্র এলজিইডির পাকা সড়ক জবরদখল করে বিদ্যালয়ের মাঠের মধ্য দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধা দিতে গেলে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখানো হয়, যার কারণে শিক্ষার্থীরাও বাধা দিতে পারেনি।
বিদ্যালয়ের মাঝখান দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। এলজিইডি অফিস সরেজমিনে পরিদর্শন করে পাকা সড়ক জবরদখলের প্রমাণও পেয়েছে।
গাছ কাটা ও পুলিশের পদক্ষেপ
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা গাছ কাটার লোক নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের সামনের মাঠ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ৫টি গাছ কেটে ফেলে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধা দিলেও তারা শোনেনি। পরে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে থানার এসআই লিটন ঘটনাস্থলে এসে গাছগুলো জব্দ করেন এবং ক্যাবল ব্যবসায়ী মিন্টুর জিম্মায় দিয়ে যান।
এসআই লিটন জানান, “আমরা খবর পেয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেছি। তবে এটি দেখার দায়িত্ব মাধ্যমিক অফিস ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের। তারা দায়িত্ব নিলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে স্কুলটি রক্ষার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কী ভূমিকা নেবে, এমন প্রশ্নের সঠিক কোনো উত্তর তিনি দিতে পারেননি।


