শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় নতুন বিতর্ক, এনটিআরসিএর ভূমিকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যমান আইনে এনটিআরসিএকে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে বিসিএসের আদলে পৃথক একটি কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে শিক্ষা-সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষক নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিএনপি সরকারের আমলে এনটিআরসিএ গঠন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে এ ব্যবস্থাকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কয়েক হাজার জাল সনদধারী বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই আগে এসব জাল সনদধারীকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগে তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে, তবে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। এ কারণে বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি স্বাধীন ও কার্যকর নিয়োগ কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

শিক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তর, এনটিআরসিএ এবং পাঠ্যপুস্তক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতির কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। এসব প্রতিষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না এলে শিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি জানান, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে এবং এই খাতকে ঘিরে অযথা বিতর্ক এড়িয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আলোচনায় বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিও উত্থাপন করেন সেলিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, অতীতে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা উচিত। পাশাপাশি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সংসদ সদস্যের মতে, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষকদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষাঙ্গন এর আরও খবর
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
এইচএসসির প্রথম দিনেই কুমিল্লা বোর্ডে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত
নিজ প্রতিষ্ঠানে সন্তান ভর্তি না করায় শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর প্রশ্ন, সভায় বিব্রতকর পরিস্থিতি
খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে বড় পরিবর্তন, নম্বর যোগের ভুলের বাইরে দেখা হবে মূল্যায়নের মানও
এইচএসসি পরীক্ষায় নকল ঠেকাতে কঠোর বার্তা: দায় এড়াতে পারবেন না কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠান প্রধানও
ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্রুত পুনঃসুপারিশের দাবি
