নিজ প্রতিষ্ঠানে সন্তান ভর্তি না করায় শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর প্রশ্ন, সভায় বিব্রতকর পরিস্থিতি

নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়ানো নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে কি না— এমন প্রশ্ন তুলে দিনাজপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের সামনে সরাসরি প্রশ্ন রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তার প্রশ্নের জবাবে চার শতাধিক শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন হাত তোলেন, যা দেখে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় ঘটনাটি ঘটে। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানতে চান, উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে কারা নিজেদের কর্মস্থল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই সন্তানদের ভর্তি করিয়ে পড়াচ্ছেন। জবাবে অল্পসংখ্যক শিক্ষক হাত তুললে তিনি বিষয়টিকে শিক্ষার মান ও শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষক যদি নিজের সন্তানকে নিজ প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর ব্যাপারে আস্থা না পান, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ও মান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদেরই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরে কয়েকজন শিক্ষক জানান, তাদের সন্তানরা পরিবারের সঙ্গে অন্য জেলা বা রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে না। তবে এ ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হননি শিক্ষামন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উপস্থিত বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের সবার ক্ষেত্রেই কি একই পরিস্থিতি প্রযোজ্য হতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আস্থা বাড়াতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
শিক্ষাঙ্গন এর আরও খবর
নিজ প্রতিষ্ঠানে সন্তান ভর্তি না করায় শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর প্রশ্ন, সভায় বিব্রতকর পরিস্থিতি
খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে বড় পরিবর্তন, নম্বর যোগের ভুলের বাইরে দেখা হবে মূল্যায়নের মানও
এইচএসসি পরীক্ষায় নকল ঠেকাতে কঠোর বার্তা: দায় এড়াতে পারবেন না কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠান প্রধানও
ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্রুত পুনঃসুপারিশের দাবি
প্রাথমিকে বড় নিয়োগের প্রস্তুতি, তিন মাসে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি: ফের জিপিএভিত্তিক পদ্ধতির পক্ষে শিক্ষা বোর্ডগুলো
